দীর্ঘ দুঃখরাত্রি যদি এক অতীতের প্রান্ততটে খেয়া তার শেষ করে থাকে, তবে নব বিস্ময়ের মাঝে বিশ্বজগতের শিশুলোকে জেগে ওঠে যেন সেই নূতন প্রভাতে জীবনের নূতন জিজ্ঞাসা। পুরাতন প্রশ্নগুলি উত্তর না পেয়ে অবাক্ বুদ্ধিরে যারা সদা ব্যঙ্গ করে, বালকের চিন্তাহীন লীলাচ্ছলে সহজ উত্তর তার পাই যেন মনে সহজ বিশ্বাসে-- যে বিশ্বাস আপনার মাঝে তৃপ্ত থাকে, করে না বিরোধ, আনন্দের স্পর্শ দিয়ে সত্যের প্রত্যয় দেয় এনে।
যেন শেষ গানে মোর সব রাগিণী পূরে-- আমার সব আনন্দ মেলে তাহার সুরে। যে আনন্দে মাটির ধরা হাসে অধীর হয়ে তরুলতায় ঘাসে, যে আনন্দে দুই পাগলের মতো জীবন-মরণ বেড়ায় ভুবন ঘুরে-- সেই আনন্দ মেলে তাহার সুরে। যে আনন্দ আসে ঝড়ের বেশে, ঘুমন্ত প্রাণ জাগায় অট্ট হেসে। যে আনন্দ দাঁড়ায় আঁখিজলে দুঃখ-ব্যথার রক্তশতদলে, যা আছে সব ধুলায় ফেলে দিয়ে যে আনন্দে বচন নাহি ফুরে সেই আনন্দ মেলে তাহার সুরে।