আচ্ছাদন হতে ডেকে লহো মোরে তব চক্ষুর আলোতে। অজ্ঞাত ছিলাম এতদিন পরিচয়হীন-- সেই অগোচরদুঃখভার বহিয়া চলেছি পথে; শুধু আমি অংশ জনতার। উদ্ধার করিয়া আনো, আমারে সম্পূর্ণ করি জানো। যেথা আমি একা সেথায় নামুক তব দেখা। সে মহানির্জন যে গহনে অন্তর্যামী পাতেন আসন, সেইখানে আনো আলো, দেখো মোর সব মন্দ ভালো, যাক লজ্জা ভয়, আমার সমস্ত হোক তব দৃষ্টিময়। ছায়া আমি সবা-কাছে, অস্ফুট আমি-যে, তাই আমি নিজে তাহাদের মাঝে নিজেরে খুঁজিয়া পাই না-যে। তারা মোর নাম জানে, নাহি জানে মান, তারা মোর কর্ম জানে, নাহি জানে মর্মগত প্রাণ। সত্য যদি হই তোমা-কাছে তবে মোর মূল্য বাঁচে, তোমার মাঝারে বিধির স্বতন্ত্র সৃষ্টি জানিব আমারে। প্রেম তব ঘোষিবে তখন অসংখ্য যুগের আমি একান্ত সাধন। তুমি মোরে করো আবিষ্কার, পূর্ণ ফল দেহো মোরে আমার আজন্ম প্রতীক্ষার। বহিতেছি অজ্ঞাতির বন্ধন সদাই, মুক্তি চাই তোমার জানার মাঝে সত্য তব যেথায় বিরাজে।
কে জানে এ কি ভালো? আকাশ-ভরা কিরণধারা আছিল মোর তপন-তারা, আজিকে শুধু একেলা তুমি আমার আঁখি-আলো-- কে জানে এ কি ভালো? কত-না শোভা, কত-না সুখ, কত-না ছিল অমিয়-মুখ, নিত্য-নব পুষ্পরাশি ফুটিত মোর দ্বারে-- ক্ষুদ্র আশা ক্ষুদ্র স্নেহ মনের ছিল শতেক গেহ, আকাশ ছিল, ধরণী ছিল আমার চারি ধারে-- কোথায় তারা, সকলে আজি তোমাতেই লুকালো। কে জানে এ কি ভালো? কম্পিত এ হৃদয়খানি তোমার কাছে তাই। দিবসনিশি জাগিয়া আছি, নয়নে ঘুম নাই। সকল গান সকল প্রাণ তোমারে আমি করেছি দান-- তোমারে ছেড়ে বিশ্বে মোর তিলেক নাহি ঠাঁই। সকল পেয়ে তবুও যদি তৃপ্তি নাহি মেলে, তবুও যদি চলিয়া যাও আমারে পাছে ফেলে, নিমেষে সব শূন্য হবে তোমারি এই আসন ভবে, চিহ্নসম কেবল রবে মৃত্যু-রেখা কালো। কে জানে এ কি ভালো?