বিজ্ঞানাচার্য শ্রীযুক্ত জগদীশচন্দ্র বসু করকমলেষু বন্ধু, এ যে আমার লজ্জাবতী লতা কী পেয়েছে আকাশ হতে কী এসেছে বায়ুর স্রোতে পাতার ভাঁজে লুকিয়ে আছে সে যে প্রাণের কথা। যত্নভরে খুঁজে খুঁজে তোমায় নিতে হবে বুঝে, ভেঙে দিতে হবে যে তার নীরব ব্যাকুলতা। আমার লজ্জাবতী লতা। বন্ধু, সন্ধ্যা এল, স্বপনভরা পবন এরে চুমে। ডালগুলি সব পাতা নিয়ে জড়িয়ে এল ঘুমে। ফুলগুলি সব নীল নয়ানে চুপিচুপি আকাশপানে তারার দিকে চেয়ে চেয়ে কোন্ ধেয়ানে রতা। আমার লজ্জাবতী লতা। বন্ধু, আনো তোমার তড়িৎ-পরশ, হরষ দিয়ে দাও, করুণ চক্ষু মেলে ইহার মর্মপানে চাও। সারা দিনের গন্ধগীতি সারা দিনের আলোর স্মৃতি নিয়ে এ যে হৃদয়ভারে ধরায় অবনতা-- আমার লজ্জাবতী লতা। বন্ধু, তুমি জান ক্ষুদ্র যাহা ক্ষুদ্র তাহা নয়, সত্য যেথা কিছু আছে বিশ্ব সেথা রয় এই-যে মুদে আছে লাজে পড়বে তুমি এরি মাঝে-- জীবনমৃত্যু রৌদ্রছায়া ঝটিকার বারতা। আমার লজ্জাবতী লতা।
নাম রেখেছি কোমল গান্ধার, মনে মনে। যদি তার কানে যেত অবাক হয়ে থাকত বসে, বলত হেসে "মানে কী'। মানে কিছুই যায় না বোঝা সেই মানেটাই খাঁটি। কাজ আছে কর্ম আছে সংসারে, ভালো মন্দ অনেক রকম আছে-- তাই নিয়ে তার মোটামুটি সবার সঙ্গে চেনাশোনা। পাশের থেকে আমি দেখি বসে বসে কেমন একটি সুর দিয়েছে চার দিকে। আপনাকে ও আপনি জানে না। যেখানে ওর অন্তর্যামীর আসন পাতা সেইখানে তাঁর পায়ের কাছে রয়েছে কোন্ ব্যথা-ধূপের পাত্রখানি। সেখান থেকে ধোঁয়ার আভাস চোখের উপর পড়ে, চাঁদের উপর মেঘের মতো-- হাসিকে দেয় একটুখানি ঢেকে। গলার সুরে কী করুণা লাগে ঝাপসা হয়ে। ওর জীবনের তানপুরা যে ওই সুরেতেই বাঁধা, সেই কথাটি ও জানে না। চলায় বলায় সব কাজেতেই ভৈরবী দেয় তান কেন যে তার পাই নে কিনারা। তাই তো আমি নাম দিয়েছি কোমল গান্ধার-- যায় না বোঝা যখন চক্ষু তোলে বুকের মধ্যে অমন ক'রে কেন লাগায় চোখের জলের মিড়।