আমারে তুমি অশেষ করেছ এমনি লীলা তব। ফুরায়ে ফেলে আবার ভরেছ জীবন নব নব। কত যে গিরি কত যে নদীতীরে বেড়ালে বহি ছোটো এ বাঁশিটিরে, কত যে তান বাজালে ফিরে ফিরে কাহারে তাহা কব। তোমারি ওই অমৃতপরশে আমার হিয়াখানি হারালো সীমা বিপুল হরষে উথলি' উঠে বাণী। আমার শুধু একটি মুঠি ভরি দিতেছ দান দিবসবিভাবরী, হল না সারা কত-না যুগ ধরি, কেবলি আমি লব।
সতীলোকে বসি আছে কত পতিব্রতা, পুরাণে উজ্জ্বল আছে যাঁহাদের কথা। আরো আছে শত লক্ষ অজ্ঞাতনামিনী খ্যাতিহীনা কীর্তিহীনা কত-না কামিনী-- কেহ ছিল রাজসৌধে কেহ পর্ণঘরে, কেহ ছিল সোহাগিনী কেহ অনাদরে; শুধু প্রীতি ঢালি দিয়া মুছি লয়ে নাম চলিয়া এসেছে তারা ছাড়ি মর্তধাম। তারি মাঝে বসি আছে পতিতা রমণী মর্তে কলঙ্কিনী, স্বর্গে সতীশিরোমণি। হেরি তারে সতীগর্বে গরবিনী যত সাধ্বীগণ লাজে শির করে অবনত। তুমি কী জানিবে বার্তা, অন্তর্যামী যিনি তিনিই জানেন তার সতীত্বকাহিনী।
জানি নাই গো সাধন তোমার বলে কারে। আমি ধুলায় বসে খেলেছি এই তোমার দ্বারে। অবোধ আমি ছিলেম বলে যেমন খুশি এলেম চলে ভয় করি নি তোমায় আমি অন্ধকারে। তোমার জ্ঞানী আমায় বলে কঠিন তিরস্কারে "পথ দিয়ে তুই আসিস নি যে ফিরে যা রে।" ফেরার পন্থা বন্ধ ক'রে আপনি বাঁধো বাহুর ডোরে, ওরা আমায় মিথ্যা ডাকে বারে বারে।