নামটা যেদিন ঘুচাবে, নাথ, বাঁচব সেদিন মুক্ত হয়ে-- আপনগড়া স্বপন হতে তোমার মধ্যে জনম লয়ে। ঢেকে তোমার হাতের লেখা কাটি নিজের নামের রেখা, কতদিন আর কাটবে জীবন এমন ভীষণ আপদ বয়ে। সবার সজ্জা হরণ করে আপনাকে সে সাজাতে চায়। সকল সুরকে ছাপিয়ে দিয়ে আপনাকে সে বাজাতে চায়। আমার এ নাম যাক না চুকে, তোমারি নাম নেব মুখে, সবার সঙ্গে মিলব সেদিন বিনা-নামের পরিচয়ে।
কেমনে কী হল পারি নে বলিতে, এইটুকু শুধু জানি-- নবীন কিরণে ভাসিছে সে দিন প্রভাতের তনুখানি। বসন্ত তখনো কিশোর কুমার, কুঁড়ি উঠে নাই ফুটি, শাখায় শাখায় বিহগ বিহগী বসে আছে দুটি দুটি। কী যে হয়ে গেল পারি নে বলিতে, এইটুকু শুধু জানি-- বসন্তও গেল, তাও চলে গেল একটি না কয়ে বাণী। যা-কিছু মধুর সব ফুরাইল, সেও হল অবসান-- আমারেই শুধু ফেলে রেখে গেল সুখহীন ম্রিয়মাণ।
তোমায় আমার প্রভু করে রাখি আমার আমি সেইটুকু থাক্ বাকি। তোমায় আমি হেরি সকল দিশি, সকল দিয়ে তোমার মাঝে মিশি, তোমারে প্রেম জোগাই দিবানিশি, ইচ্ছা আমার সেইটুকু থাক্ বাকি-- তোমায় আমার প্রভু করে রাখি। তোমায় আমি কোথাও নাহি ঢাকি কেবল আমার সেইটুকু থাক্ বাকি। তোমার লীলা হবে এ প্রাণ ভরে এ সংসারে রেখেছ তাই ধরে, রইব বাঁধা তোমার বাহুডোরে বাঁধন আমার সেইটুকু থাক্ বাকি-- তোমায় আমার প্রভু করে রাখি।