ভাগ্য যখন কৃপণ হয়ে আসে, বিশ্ব যবে নিঃস্ব তিলে তিলে, মিষ্ট মুখে ভুবন-ভরা হাসি ওষ্ঠে শেষে ওজন-দরে মিলে, বন্ধুজনে বন্ধ করে প্রাণ, দীর্ঘদিন সঙ্গীহীন একা, হঠাৎ পড়ে ঋণশোধেরই পালা, ঋণীজনের না যায় পাওয়া দেখা, তখন ঘরে বন্ধ হ রে কবি, খিলের পরে খিল লাগাও খিল। কথার সাথে গাঁথো কথার মালা, মিলের সাথে মিল মিলাও মিল। কপাল যদি আবার ফিরে যায়, প্রভাত-কালে হঠাৎ জাগরণে, শূন্য নদী আবার যদি ভরে শরৎ-মেঘে ত্বরিত বরিষনে, বন্ধু ফিরে বন্দী করে বুকে, সন্ধি করে অন্ধ অরিদল, অরুণ ঠোঁটে তরুণ ফোটে হাসি, কাজল চোখে করুণ আঁখিজল, তখন খাতা পোড়াও খ্যাপা কবি, দিলের সাথে দিল লাগাও দিল। বাহুর সাথে বাঁধো মৃণাল-বাহু, চোখের সাথে চোখে মিলাও মিল।
আমরা দুজন একটি গাঁয়ে থাকি সেই আমাদের একটিমাত্র সুখ, তাদের গাছে গায় যে দোয়েল পাখি তাহার গানে আমার নাচে বুক। তাহার দুটি পালন-করা ভেড়া চরে বেড়ায় মোদের বটমূলে, যদি ভাঙে আমার খেতের বেড়া কোলের 'পরে নিই তাহারে তুলে। আমাদের এই গ্রামের নামটি খঞ্জনা, আমাদের এই নদীর নাম অঞ্জনা, আমার নাম তো জানে গাঁয়ের পাঁচ জনে-- আমাদের সেই তাহার নামটি রঞ্জনা। দুইটি পাড়ায় বড়োই কাছাকাছি, মাঝে শুধু একটি মাঠের ফাঁক-- তাদের বনের অনেক মধুমাছি মোদের বনে বাঁধে মধুর চাক। তাদের ঘাটে পূজার জবামালা ভেসে আসে মোদের বাঁধা ঘাটে, তাদের পাড়ার কুসুম-ফুলের ডালা বেচতে আসে মোদের পাড়ার হাটে। আমাদের এই গ্রামের নামটি খঞ্জনা, আমাদের এই নদীর নাম অঞ্জনা, আমার নাম তো জানে গাঁয়ের পাঁচ জনে-- আমাদের সেই তাহার নামটি রঞ্জনা। আমাদের এই গ্রামের গলি-'পরে আমের বোলে ভরে আমের বন, তাদের খেতে যখন তিসি ধরে মোদের খেতে তখন ফোটে শণ। তাদের ছাদে যখন ওঠে তারা আমার ছাদে দখিন হাওয়া ছোটে। তাদের বনে ঝরে শ্রাবণধারা, আমার বনে কদম ফুটে ওঠে। আমাদের এই গ্রামের নামটি খঞ্জনা, আমাদের এই নদীর নামটি অঞ্জনা, আমার নাম তো জানে গাঁয়ের পাঁচ জনে-- আমাদের সেই তাহার নামটি রঞ্জনা।