বিজ্ঞানাচার্য শ্রীযুক্ত জগদীশচন্দ্র বসু করকমলেষু বন্ধু, এ যে আমার লজ্জাবতী লতা কী পেয়েছে আকাশ হতে কী এসেছে বায়ুর স্রোতে পাতার ভাঁজে লুকিয়ে আছে সে যে প্রাণের কথা। যত্নভরে খুঁজে খুঁজে তোমায় নিতে হবে বুঝে, ভেঙে দিতে হবে যে তার নীরব ব্যাকুলতা। আমার লজ্জাবতী লতা। বন্ধু, সন্ধ্যা এল, স্বপনভরা পবন এরে চুমে। ডালগুলি সব পাতা নিয়ে জড়িয়ে এল ঘুমে। ফুলগুলি সব নীল নয়ানে চুপিচুপি আকাশপানে তারার দিকে চেয়ে চেয়ে কোন্ ধেয়ানে রতা। আমার লজ্জাবতী লতা। বন্ধু, আনো তোমার তড়িৎ-পরশ, হরষ দিয়ে দাও, করুণ চক্ষু মেলে ইহার মর্মপানে চাও। সারা দিনের গন্ধগীতি সারা দিনের আলোর স্মৃতি নিয়ে এ যে হৃদয়ভারে ধরায় অবনতা-- আমার লজ্জাবতী লতা। বন্ধু, তুমি জান ক্ষুদ্র যাহা ক্ষুদ্র তাহা নয়, সত্য যেথা কিছু আছে বিশ্ব সেথা রয় এই-যে মুদে আছে লাজে পড়বে তুমি এরি মাঝে-- জীবনমৃত্যু রৌদ্রছায়া ঝটিকার বারতা। আমার লজ্জাবতী লতা।
শ্লথপ্রাণ দুর্বলের স্পর্ধা আমি কভু সহিব না। লোলুপ সে লালায়িত, প্রেমেরে সে করে বিড়ম্বনা ক্লেদঘন চাটুবাক্যে, বাষ্পে বিজড়িত দৃষ্টি তার কলুষকুণ্ঠিত অঙ্গে লিপ্ত করে গ্লানি লালসার, আবেশে মন্থর কণ্ঠে গদ্গদ সে প্রার্থনা জানায় আলোকবঞ্চিত তার অন্তরের কানায় কানায় দুষ্ট ফেন উঠে বুদ্বুদিয়া-- ফেটে যায়, দেয় খুলি রুদ্ধ বিষবায়ু। গলিত মাংসের যেন ক্রিমিগুলি কল্পনাবিকার তার শিথিল চিন্তার তলে তলে আকুলিতে থাকে কিলিবিলি।-- যেন প্রাণপণ বলে মন তারে করে কষাঘাত! জীর্ণমজ্জা কাপুরুষে নারী যদি গ্রাহ্য করে, লজ্জিত দেবতা তারে দুষে অসহ্য সে অপমানে। নারী সে-যে মহেন্দ্রের দান, এসেছে ধরিত্রীতলে পুরুষেরে সঁপিতে সম্মান।