কেন মনে হয়-- তোমার এ গানখানি এখনি যে শোনালে তা নয়। বিশেষ লগ্নের কোনো চিহ্ন পড়ে নাই এর সুরে; শুধু এই মনে পড়ে, এই গানে দিগন্তের দূরে আলোর কাঁপনখানি লেগেছিল সন্ধ্যাতারকার সুগভীর স্তব্ধতায়,সে-স্পন্দন শিরায় আমার রাগিণীর চমকেতে রহি রহি বিচ্ছুরিছে আলো আজি দেয়ালির দিনে। আজো এই অন্ধকারে জ্বালো সেই সায়াহ্নের স্মৃতি, যে নিভৃতে নক্ষত্রসভায় নীহারিকা ভাষা তার প্রসারিল নিঃশব্দ প্রভায়-- যে-ক্ষণে তোমার স্বর জ্যোতির্লোকে দিতেছিল আনি অনন্তের-পথ-চাওয়া ধরিত্রীর সকরুণ বাণী। সেই স্মৃতি পার হয়ে মনে মোর এই প্রশ্ন লাগে, কালের-অতীত প্রান্তে তোমারে কি চিনিতাম আগে। দেখা হয়েছিল না কি কোনো-এক সংগীতের পথে অরূপের মন্দিরেতে অপরূপ ছন্দের জগতে।
উড়িয়ে ধ্বজা অভ্রভেদী রথে ওই যে তিনি, ও ই যে বাহির পথে। আয় রে ছুটে, টানতে হবে রশি, ঘরের কোণে রইলি কোথায় বসি। ভিড়ের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে গিয়ে ঠাঁই করে তুই নে রে কোনোমতে। কোথায় কী তোর আছে ঘরের কাজ, সে-সব কথা ভুলতে হবে আজ। টান্ রে দিয়ে সকল চিত্তকায়া, টান্ রে ছেড়ে তুচ্ছ প্রাণের মায়া, চল্ রে টেনে আলোর অন্ধকারে নগর গ্রামে অরণ্যে পর্বতে। ওই যে চাকা ঘুরছে ঝনঝনি, বুকের মাঝে শুনছ কি সেই ধ্বনি। রক্তে তোমার দুলছে না কি প্রাণ। গাইছে না মন মরণজয়ী গান? আকাঙক্ষা তোর বন্যাবেগের মতো ছুটছে নাকি বিপুল ভবিষ্যতে।