আজ এই দিনের শেষে সন্ধ্যা যে ওই মানিকখানি পরেছিল চিকন কালো কেশে গেঁথে নিলেম তারে এই তো আমার বিনিসুতার গোপন গলার হারে। চক্রবাকের নিদ্রানীরব বিজন পদ্মাতীরে এই সে সন্ধ্যা ছুঁইয়ে গেল আমার নতশিরে নির্মাল্য তোমার আকাশ হয়ে পার; ওই যে মরি মরি তরঙ্গহীন স্রোতের 'পরে ভাসিয়ে দিল তারার ছায়াতরী; ওই যে সে তার সোনার চেলি দিল মেলি রাতের আঙিনায় ঘুমে অলস কায়; ওই যে শেষে সপ্তঋষির ছায়াপথে কালো ঘোড়ার রথে উড়িয়ে দিয়ে আগুন-ধূলি নিল সে বিদায়; একটি কেবল করুণ পরশ রেখে গেল একটি কবির ভালে; তোমার ওই অনন্ত মাঝে এমন সন্ধ্যা হয় নি কোনোকালে, আর হবে না কভু। এমনি করেই প্রভু এক নিমেষের পত্রপুটে ভরি চিরকালের ধনটি তোমার ক্ষণকালে লও যে নূতন করি।
ইস্কুল-এড়ায়নে সেই ছিল বরিষ্ঠ, ফেল-করা ছেলেদের সবচেয়ে গরিষ্ঠ। কাজ যদি জুটে যায় দুদিনে তা ছুটে যায়, চাকরির বিভাগে সে অতিশয় নড়িষ্ঠ-- গলদ করিতে কাজে ভয়ানক দ্রঢ়িষ্ঠ।
দিন পরে যায় দিন, স্তব্ধ বসে থাকি; ভাবি মনে, জীবনের দান যত কত তার বাকি চুকায়ে সঞ্চয় অপচয়। অযত্নে কী হয়ে গেছে ক্ষয়, কী পেয়েছি প্রাপ্য যাহা, কী দিয়েছি যাহা ছিল দেয়, কী রয়েছে শেষের পাথেয়। যারা কাছে এসেছিল, যারা চলে গিয়েছিল দূরে, তাদের পরশখানি রয়ে গেছে মোর কোন্ সুরে। অন্যমনে কারে চিনি নাই, বিদায়ের পদধ্বনি প্রাণে আজি বাজিছে বৃথাই। হয়তো হয় নি জানা ক্ষমা করে কে গিয়েছে চলে কথাটি না ব'লে। যদি ভুল করে থাকি তাহার বিচার ক্ষোভ কি রাখিবে তবু যখন রব না আমি আর। কত সূত্র ছিন্ন হল জীবনের আস্তরণময়, জোড়া লাগাবারে আর রবে না সময়। জীবনের শেষপ্রান্তে যে প্রেম রয়েছে নিরবধি মোর কোনো অসম্মান তাহে ক্ষতচিহ্ন দেয় যদি, আমার মৃত্যুর হস্ত আরোগ্য আনিয়া দিক তারে, এ কথাই ভাবি বারে বারে।