এ আমির আবরণ সহজে স্খলিত হয়ে যাক; চৈতন্যের শুভ্র জ্যোতি ভেদ করি কুহেলিকা সত্যের অমৃত রূপ করুক প্রকাশ। সর্বমানুষের মাঝে এক চিরমানবের আনন্দকিরণ চিত্তে মোর হোক বিকীরিত। সংসারের ক্ষুব্ধতার স্তব্ধ ঊর্ধ্বলোকে নিত্যের যে শান্তিরূপ তাই যেন দেখে যেতে পারি, জীবনের জটিল যা বহু নিরর্থক, মিথ্যার বাহন যাহা সমাজের কৃত্রিম মূল্যেই, তাই নিয়ে কাঙালের অশান্ত জনতা দূরে ঠেলে দিয়ে এ জন্মের সত্য অর্থ স্পষ্ট চোখে জেনে যাই যেন সীমা তার পেরোবার আগে।
অজস্র দিনের আলো, জানি, একদিন দু চক্ষুরে দিয়েছিলে ঋণ। ফিরায়ে নেবার দাবি জানায়েছ আজ তুমি, মহারাজ। শোধ করে দিতে হবে জানি, তবু কেন সন্ধ্যাদীপে ফেল ছায়াখানি। রচিলে যে আলো দিয়ে তব বিশ্বতল আমি সেথা অতিথি কেবল। হেথা হোথা যদি পড়ে থাকে কোনো ক্ষুদ্র ফাঁকে নাই হল পুরা সেটুকু টুকুরা-- রেখে যেয়ো ফেলে অবহেলে, যেথা তব রথ শেষ চিহ্ন রেখে যায় অন্তিম ধুলায় সেথায় রচিতে দাও আমার জগৎ। অল্প কিছু আলো থাক্, অল্প কিছু ছায়া আর কিছু মায়া। ছায়াপথে লুপ্ত আলোকের পিছু হয়তো কুড়ায়ে পাবে কিছু-- কণামাত্র লেশ তোমার ঋণের অবশেষ।
আবার যদি ইচ্ছা কর আবার আসি ফিরে দুঃখসুখের-ঢেউ-খেলানো এই সাগরের তীরে। আবার জলে ভাসাই ভেলা, ধুলার 'পরে করি খেলা, হাসির মায়ামৃগীর পিছে ভাসি নয়ন-নীরে। কাঁটার পথে আঁধার রাতে আবার যাত্রা করি-- আঘাত খেয়ে বাঁচি কিম্বা আঘাত খেয়ে মরি। আবার তুমি ছদ্মবেশে আমার সাথে খেলাও হেসে, নূতন প্রেমে ভালোবাসি আবার ধরণীরে।