এতটুকু আঁধার যদি লুকিয়ে রাখিস বুকের 'পরে আকাশ-ভরা সূর্যতারা মিথ্যা হবে তোদের তরে। শিশির-ধোওয়া এই বাতাসে হাত বুলালো ঘাসে ঘাসে, ব্যর্থ হবে কেবল যে সে তোদের ছোটো কোণের ঘরে। মুগ্ধ ওরে, স্বপ্নঘোরে যদি প্রাণের আসনকোণে ধুলায়-গড়া দেবতারে লুকিয়ে রাখিস আপন-মনে-- চিরদিনের প্রভু তবে তোদের প্রাণে বিফল হবে, বাইরে সে যে দাঁড়িয়ে রবে কত-না যুগযুগান্তরে।
আমি ভালোবাসি আমার নদীর বালুচর, শরৎকালে যে নির্জনে চকাচকীর ঘর। যেথায় ফুটে কাশ তটের চারি পাশ, শীতের দিনে বিদেশী সব হাঁসের বসবাস। কচ্ছপেরা ধীরে রৌদ্র পোহায় তীরে, দু-একখানি জেলের ডিঙি সন্ধেবেলায় ভিড়ে। আমি ভালোবাসি আমার নদীর বালুচর, শরৎকালে যে নির্জনে চকাচকীর ঘর। তুমি ভালোবাস তোমার ওই ও পারের বন, যেথায় গাঁথা ঘনচ্ছায়া পাতার আচ্ছাদন। যেথায় বাঁকা গলি নদীতে যায় চলি, দুই ধারে তার বেণুবনের শাখায় গলাগলি। সকাল-সন্ধেবেলা ঘাটে বধূর মেলা, ছেলের দলে ঘাটের জলে ভাসে ভাসায় ভেলা। তুমি ভালোবাস তোমার ওই ও পারের বন, যেথায় গাঁথা ঘনচ্ছায়া পাতার আচ্ছাদন। তোমার আমার মাঝখানেতে একটি বহে নদী, দুই তটেরে একই গান সে শোনায় নিরবধি। আমি শুনি শুয়ে বিজন বালু-ভুঁয়ে, তুমি শোন কাঁখের কলস ঘাটের 'পরে থুয়ে। তুমি তাহার গানে বোঝ একটা মানে, আমার কূলে আরেক অর্থ ঠেকে আমার কানে। তোমার আমার মাঝখানেতে একটি বহে নদী, দুই তটেরে একই গান সে শোনায় নিরবধি।