ফসল কাটা হলে সারা মাঠ হয়ে যায় ফাঁক; অনাদরের শস্য গজায়, তুচ্ছ দামের শাক। আঁচল ভরে তুলতে আসে গরিব-ঘরের মেয়ে, খুশি হয়ে বাড়িতে যায়, যা জোটে তাই পেয়ে। আজকে আমার চাষ চলে না, নাই লাঙলের বালাই; পোড়ো মাঠের কুঁড়েমিতে মন্থর দিন চালাই। জমিতে রস কিছু আছে, শক্ত যায় নি আঁটি; ফলায় না সে ফল তবুও সবুজ রাখে মাটি। শ্রাবণ আমার গেছে চলে, নাই বাদলের ধারা; অঘ্রান সে সোনার ধানের দিন করেছে সারা। চৈত্র আমার রোদে পোড়া, শুকনো যখন নদী, বুনো ফলের ঝোপের তলায় ছায়া বিছায় যদি, জানব আমার শেষের মাসে ভাগ্য দেয় নি ফাঁকি, শ্যামল ধরার সঙ্গে আমার বাঁধন রইল বাকি।
কোথায় যেতে ইচ্ছে করে শুধাস কি, মা, তাই? যেখান থেকে এসেছিলেম সেথায় যেতে চাই। কিন্তু সে যে কোন্ জায়গা ভাবি অনেকবার। মনে আমার পড়ে না তো একটুখানি তার। ভাবনা আমার দেখে, বাবা বললে সেদিন হেসে "সে-জায়গাটি মেঘের পারে সন্ধ্যাতারার দেশে।" তুমি বল, "সে-দেশখানি মাটির নিচে আছে, যেখান থেকে ছাড়া পেয়ে ফুল ফোটে সব গাছে।" মাসি বলে, "সে দেশ আমার আছে সাগরতলে,-- যেখানেতে আঁধার ঘরে লুকিয়ে মানিক জ্বলে।" দাদা আমার চুল টেনে দেয়, বলে, "বোকা ওরে, হাওয়ায় সে-দেশ মিলিয়ে আছে দেখবি কেমন করে?" আমি শুনে ভাবি, আছে সকল জায়গাতেই। সিধু মাস্টার বলে শুধু "কোনোখানেই নেই।"