তারা দিনের বেলা এসেছিল আমার ঘরে, বলেছিল, একটি পাশে রইব প'ড়ে। বলেছিল, দেবতা সেবায় আমরা হব তোমার সহায়-- যা কিছু পাই প্রসাদ লব পূজার পরে। এমনি করে দরিদ্র ক্ষীণ মলিন বেশে সংকোচেতে একটি কোণে রইল এসে। রাতে দেখি প্রবল হয়ে পশে আমার দেবালয়ে, মলিন হাতে পূজার বলি হরণ করে।
হে ধরণী, জীবের জননী, শুনেছি যে মা তোমায় বলে, তবে কেন তোর কোলে সবে কেঁদে আসে, কেঁদে যায় চলে। তবে কেন তোর কোলে এসে সন্তানের মেটে না পিয়াসা। কেন চায়, কেন কাঁদে সবে, কেন কেঁদে পায় না ভালোবাসা। কেন হেথা পাষাণ-পরান, কেন সবে নীরস নিষ্ঠুর, কেঁদে কেঁদে দুয়ারে যে আসে কেন তারে করে দেয় দূর। কাঁদিয়া যে ফিরে চলে যায় তার তরে কাঁদিস নে কেহ, এই কি মা, জননীর প্রাণ, এই কি মা, জননীর স্নেহ!
হাসির কুসুম আনিল সে ডালি ভরি, আমি আনিলাম দুখবাদলের ফল। শুধালেম তারে, "যদি এ বদল করি হার হবে কার বল্।' হাসি কৌতুকে কহিল সে সুন্দরী, "এসো-না, বদল করি। দিয়ে মোর হার লব ফলভার অশ্রুর রসে ভরা।' চাহিয়া দেখিনু মুখপানে তার নিদয়া সে মনোহরা। সে লইল তুলে আমার ফলের ডালা, করতালি দিল হাসিয়া সকৌতুকে। আমি লইলাম তাহার ফুলের মালা, তুলিয়া ধরিনু বুকে। "মোর হল জয়' হেসে হেসে কয়, দূরে চলে গেল ত্বরা। উঠিল তপন মধ্যগগনদেশে, আসিল দারুণ খরা-- সন্ধ্যায় দেখি তপ্ত দিনের শেষে ফুলগুলি সব ঝরা।