কল্যাণীয়া শ্রীমতী রমা দেবী আজি তব জন্মদিনে এই কথা করাব স্মরণ -- জয় করে নিতে হয় আপনার জীবন মরণ আপন অক্লান্ত বলে দিনে দিনে; যা পেয়েছ দান তার মূল্য দিতে হবে, দিতে হবে তাহারে সম্মান নিত্য তব নির্মল নিষ্ঠায়। নহে ভোগ, নহে খেলা এ জীবন, নহে ইহা কালস্রোতে ভাসাইতে ভেলা খেয়ালের পাল তুলে। আপনারে দীপ করি জ্বালো, দুর্গম সংসারপথে অন্ধকারে দিতে হবে আলো, সত্যলক্ষ্যে যেতে হবে অসত্যের বিঘ্ন করি দূর, জীবনের বীণাতন্ত্রে বেসুরে আনিতে হবে সুর-- দুঃখেরে স্বীকার করি; অনিত্যের যত আবর্জনা পূজার প্রাঙ্গণ হতে নিরালস্যে করিবে মার্জনা প্রতিক্ষণে সাবধানে, এই মন্ত্র বাজুক নিয়ত চিন্তায় বচনে কর্মে তব -- উত্তিষ্ঠত নিবোধত।
যখন যেমন মনে করি তাই হতে পাই যদি আমি তবে একখানি হই ইচ্ছামতী নদী। রৈবে আমার দখিন ধারে সূর্য ওঠার পার, বাঁয়ের ধারে সন্ধ্যেবেলায় নামবে অন্ধকার। আমি কইব মনের কথা দুই পারেরি সাথে, আধেক কথা দিনের বেলায়, আধেক কথা রাতে। যখন ঘুরে ঘুরে বেড়াই আপন গাঁয়ের ঘাটে ঠিক তখনি গান গেয়ে যাই দূরের মাঠে মাঠে গাঁয়ের মানুষ চিনি, যারা নাইতে আসে জলে, গোরু মহিষ নিয়ে যারা সাঁতরে ওপার চলে। দূরের মানুষ যারা তাঁদের নতুনতরো বেশ, নাম জানি নে, গ্রাম জানি নে অদ্ভুতের একশেষ। জলের উপর ঝলোমলো টুকরো আলোর রাশি। ঢেউয়ে ঢেউয়ে পরীর নাচন, হাততালি আর হাসি। নিচের তলায় তলিয়ে যেথায় গেছে ঘাটের ধাপ সেইখানেতে কারা সবাই রয়েছে চুপচাপ। কোণে কোণে আপন মনে করছে তারা কী কে। আমারি ভয় করবে কেমন তাকাতে সেই দিকে। গাঁয়ের লোকে চিনবে আমার কেবল একটুখানি। বাকি কোথায় হারিয়ে যাবে আমিই সে কি জানি? একধারেতে মাঠে ঘাটে সবুজ বরন শুধু, আর একধারে বালুর চরে রৌদ্র করে ধু ধু। দিনের বেলায় যাওয়া আসা, রাত্তিরে থম থম! ডাঙার পানে চেয়ে চেয়ে করবে গা ছম ছম।