পাড়ায় কোথাও যদি কোনো মৌচাকে একটুকু মধু বাকি থাকে, যদি তা পাঠাতে পার ডাকে, বিলাতি সুগার হতে পাব নিস্তার, প্রাতরাশে মধুরিমা হবে বিস্তার। মধুর অভাব যবে অন্তরে বাজে "গুড়ং দদ্যাৎ' বাণী বলে কবিরাজে। দায়ে পড়ে তাই লুচি-পাউরুটিগুলো গুড় দিয়ে খাই; বিমর্ষমুখে বলি "গুড়ং দদ্যাৎ', সে যেন গদ্যের দেশে আসি পদ্যাৎ। খালি বোতলের পানে চেয়ে চেয়ে চিত্ত নিশ্বাস ফেলে বলে, সকলই অনিত্য। সম্ভব হয় যদি এ বোতলটারে পূর্ণতা এনে দিতে পারে দূর হতে তোমার আতিথ্য। গৌড়ী গদ্য হতে মধুময় পদ্য দর্শন দিতে পারে সদ্য।
রৌদ্রতাপ ঝাঁঝাঁ করে জনহীন বেলা দুপহরে। শূন্য চৌকির পানে চাহি, সেথায় সান্ত্বনালেশ নাহি। বুক ভরা তার হতাশের ভাষা যেন করে হাহাকার। শূন্যতার বাণী ওঠে করুণায় ভরা, মর্ম তার নাহি যায় ধরা। কুকুর মনিবহারা যেমন করুণ চোখে চায় অবুঝ মনের ব্যথা করে হায় হায়; কী হল যে, কেন হল, কিছু নাহি বোঝে-- দিনরাত ব্যর্থ চোখে চারি দিকে খোঁজে। চৌকির ভাষা যেন আরো বেশি করুণ কাতর, শূন্যতার মূক ব্যথা ব্যাপ্ত করে প্রিয়হীন ঘর।