যারে সে বেসেছে ভালো তারে সে কাঁদায়। নূতন ধাঁধায় ক্ষণে ক্ষণে চমকিয়া দেয় তারে, কেবলই আলো-আঁধারে সংশয় বাধায়; ছল-করা অভিমানে বৃথা সে সাধায়। সে কি শরতের মায়া উড়ো মেঘে নিয়ে আসে বৃষ্টিভরা ছায়া। অনুকূল চাহনির তলে কী বিদ্যুৎ ঝলে। কেন দয়িতের মিনতিকে অভাবিত উচ্চ হাস্যে উড়াইয়া দেয় দিকে দিকে। তার পরে আপনার নির্দয় লীলায় আপনি সে ব্যথা পায়, ফিরে যে গিয়েছে তারে ফিরায়ে ডাকিতে কাঁদে প্রাণ; আপনার অভিমানে করে খানখান। কেন তার চিত্তাকাশে সারা বেলা পাগল হাওয়ার এই এলোমেলো খেলা। আপনি সে পারে না বুঝিতে যেদিকে চলিতে চায় কেন তার চলে বিপরীতে। গভীর অন্তরে যেন আপনার অগোচরে আপনার সাথে তার কী আছে বিরোধ, অন্যেরে আঘাত করে আত্মঘাতী ক্রোধ; মুহূর্তেই বিগলিত করুণায় অপমানিতের পায় প্রাণমন দেয় ঢালি-- নাম কি হেঁয়ালী।
না গণি মনের ক্ষতি ধনের ক্ষতিতে হে বরেণ্য, এই বর দেহো মোর চিতে। যে ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ তোমার ভুবন এই তৃণভূমি হতে সুদূর গগন যে আলোকে, যে সংগীতে, যে সৌন্দর্যধনে, তার মূল্য নিত্য যেন থাকে মোর মনে স্বাধীন সবল শান্ত সরল সন্তোষ। অদৃষ্টেরে কভু যেন নাহি দিই দোষ কোনো দুঃখ কোনো ক্ষতি অভাবের তরে। বিস্বাদ না জন্মে যেন বিশ্বচরাচরে ক্ষুদ্র খন্ড হারাইয়া। ধনীর সমাজে না হয় না হোক স্থান, জগতের মাঝে আমার আসন যেন রহে সর্ব ঠাঁই, হে দেব, একান্তচিত্তে এই বর চাই।