মিছে হাসি মিছে বাঁশি মিছে এ যৌবন, মিছে এই দরশের পরশের খেলা। চেয়ে দেখো, পবিত্র এ মানবজীবন, কে ইহারে অকাতরে করে অবহেলা! ভেসে ভেসে এই মহা চরাচরস্রোতে কে জানে গো আসিয়াছে কোন্খান হতে, কোথা হতে নিয়ে এল প্রেমের আভাস, কোন্ অন্ধকার ভেদি উঠিল আলোতে। এ নহে খেলার ধন, যৌবনের আশ-- বোলো না ইহার কানে আবেশের বাণী! নহে নহে এ তোমার বাসনার দাস, তোমার ক্ষুধার মাঝে আনিয়ো না টানি! এ তোমার ঈশ্বরের মঙ্গল-আশ্বাস, স্বর্গের আলোক তব এই মুখখানি।
অন্ধকারের সিন্ধুতীরে একলাটি ঐ মেয়ে আলোর নৌকা ভাসিয়ে দিল আকাশপানে চেয়ে। মা যে তাহার স্বর্গে গেছে এই কথা সে জানে, ঐ প্রদীপের খেয়া বেয়ে আসবে ঘরের পানে। পৃথিবীতে অসংখ্য লোক, অগণ্য তার পথ, তারই মধ্যে স্বর্গ থেকে ছোট্ট ঘরের কোণ যায় কি দেখা যেথায় থাকে দুটিতে ভাইবোন। মা কি তাদের খুঁজে খুঁজে বেড়ায় অন্ধকারে, তারায় তারায় পথ হারিয়ে যায় শূন্যের পারে। মেয়ের হাতের একটি আলো জ্বালিয়ে দিল রেখে, সেই আলো মা নেবে চিনে অসীম দূরের থেকে। ঘুমের মধ্যে আসবে ওদের চুমো খাবার তরে রাতে রাতে মা-হারা সেই বিছানাটির 'পরে।