প্রভু, তোমার বীণা যেমনি বাজে আঁধার-মাঝে অমনি ফোটে তারা। যেন সেই বীণাটি গভীর তানে আমার প্রাণে বাজে তেমনি ধারা। তখন নূতন সৃষ্টি প্রকাশ হবে কী গৌরবে হৃদয়-অন্ধকারে। তখন স্তরে স্তরে আলোকরাশি উঠবে ভাসি চিত্তগগনপারে। তখন তোমারি সৌন্দর্যছবি ওগো কবি আমায় পড়বে আঁকা- তখন বিস্ময়ের রবে না সীমা ওই মহিমা আর যাবে না ঢাকা। তখন তোমারি প্রসন্ন হাসি পড়বে আসি নবজীবন-'পরে। তখন আনন্দ-অমৃতে তব ধন্য হব চিরদিনের তরে।
জীবনে যা চিরদিন রয়ে গেছে আভাসে প্রভাতের আলোকে যা ফোটে নাই প্রকাশে, জীবনের শেষ দানে জীবনের শেষ গানে, হে দেবতা, তাই আজি দিব তব সকাশে, প্রভাতের আলোকে যা ফোটে নাই প্রকাশে। কথা তারে শেষ করে পারে নাই বাঁধিতে, গান তারে সুর দিয়ে পারে নাই সাধিতে। কী নিভৃতে চুপে চুপে মোহন নবীনরূপে নিখিল নয়ন হতে ঢাকা ছিল, সখা, সে। প্রভাতের আলোকে তো ফোটে নাই প্রকাশে। ভ্রমেছি তাহারে লয়ে দেশে দেশে ফিরিয়া, জীবনে যা ভাঙাগড়া সবি তারে ঘিরিয়া। সব ভাবে সব কাজে আমার সবার মাঝে শয়নে স্বপনে থেকে তবু ছিল একা সে। প্রভাতের আলোকে তো ফোটে নাই প্রকাশে। কত দিন কত লোকে চেয়েছিল উহারে, বৃথা ফিরে গেছে তারা বাহিরের দুয়ারে আর কেহ বুঝিবে না, তোমা সাথে হবে চেনা সেই আশা লয়ে ছিল আপনারি আকাশে, প্রভাতের আলোকে তো ফোটে নাই প্রকাশে।