দেখছ না কি, নীল মেঘে আজ আকাশ অন্ধকার। সাত সমুদ্র তেরো নদী আজকে হব পার। নাই গোবিন্দ, নাই মুকুন্দ, নাইকো হরিশ খোঁড়া। তাই ভাবি যে কাকে আমি করব আমার ঘোড়া। কাগজ ছিঁড়ে এনেছি এই বাবার খাতা থেকে, নৌকো দে না বানিয়ে, অমনি দিস, মা, ছবি এঁকে। রাগ করবেন বাবা বুঝি দিল্লি থেকে ফিরে? ততক্ষণ যে চলে যাব সাত সমুদ্র তীরে। এমনি কি তোর কাজ আছে, মা, কাজ তো রোজই থাকে। বাবার চিঠি এক্খুনি কি দিতেই হবে ডাকে? নাই বা চিঠি ডাকে দিলে আমার কথা রাখো, আজকে না হয় বাবার চিঠি মাসি লিখুন নাকো! আমার এ যে দরকারি কাজ বুঝতে পার না কি? দেরি হলেই একেবারে সব যে হবে ফাঁকি। মেঘ কেটে যেই রোদ উঠবে বৃষ্টি বন্ধ হলে সাত সমুদ্র তেরো নদী কোথায় যাবে চলে!
নিজের হাতে উপার্জনে সাধনা নেই সহিষ্ণুতার। পরের কাছে হাত পেতে খাই, বাহাদুরি তারি গুঁতার। কৃপণ দাতার অন্নপাকে ডাল যদি বা কমতি থাকে গাল-মিশানো গিলি তো ভাত-- নাহয় তাতে নেইকো সুতার। নিজের জুতার পাত্তা না পাই, স্বাদ পাওয়া যায় পরের জুতার।
গণিতে রেলেটিভিটি প্রমাণের ভাবনায় দিনরাত একা ব'সে কাটালো সে পাবনায়-- নাম তার চুনিলাল, ডাক নাম ঝোড়্কে। ১ গুলো সবই ১ সাদা আর কালো কি, গণিতের গণনায় এ মতটা ভালো কি। অবশেষে সাম্যের সামলাবে তোড় কে। একের বহর কভু বেশি কভু কম হবে, এক রীতি হিসাবের তবুও কি সম্ভবে। ৭ যদি বাঁশ হয়, ৩ হয় খড়কে, তবু শুধু ১০ দিয়ে জুড়বে সে জোড় কে। যোগ যদি করা যায় হিড়িম্বা কুন্তীতে, সে কি ২ হতে পারে গণিতের গুন্তিতে। যতই না কষে নাও মোচা আর থোড়কে তার গুণফল নিয়ে আঁক যাবে ভড়কে।