না রে, তোদের ফিরতে দেব না রে-- মরণ যেথায় লুকিয়ে বেড়ায় সেই আরামের দ্বারে। চলতে হবে সামনে সোজা, ফেলতে হবে মিথ্যা বোঝা, টলতে আমি দেব না যে আপন ব্যথাভারে। না রে, তোদের রইতে দেব না রে-- দিবানিশি ধুলাখেলায় খেলাঘরের দ্বারে। চলতে হবে আশার গানে প্রভাত-আলোর উদয়-পানে, নিমেষতরে পাবি নেকো বসতে পথের ধারে। না রে, তোদের থামতে দেব না রে-- কানাকানি করতে কেবল কোণের ঘরের দ্বারে। ওই যে নীরব বজ্রবাণী আগুন বুকে দিচ্ছে হানি-- সইতে হবে, বইতে হবে, মানতে হবে তারে।
সে পরম পরিপূর্ণ প্রভাতের লাগি, হে ভারত, সর্বদুঃখে রহো তুমি জাগি সরলনির্মলচিত্ত-- সকল বন্ধনে আত্মারে স্বাধীন রাখি, পুষ্প ও চন্দনে আপনার অন্তরের মাহাত্ম্যমন্দির সজ্জিত সুগন্ধি করি, দুঃখনম্রশির তাঁর পদতলে নিত্য রাখিয়া নীরবে। তাঁ' হতে বঞ্চিত করে তোমারে এ ভবে এমন কেহই নাই-- সেই গর্বভরে সর্বভয়ে থাকো তুমি নির্ভয় অন্তরে তাঁর হস্ত হতে লয়ে অক্ষয় সম্মান। ধরায় হোক-না তব যত নিম্ন স্থান তাঁর পাদপীঠ করো সে আসন তব যাঁর পাদরেণুকণা এ নিখিল ভব।