দেয়ালের ঘেরে যারা গৃহকে করেছে কারা, ঘর হতে আঙিনা বিদেশ, গুরুভজা বাঁধা বুলি যাদের পরায় ঠুলি, মেনে চলে ব্যর্থ নিদেশ, যাহা কিছু আজগুবি বিশ্বাস করে খুবই, সত্য যাদের কাছে হেঁয়ালি, সামান্য ছুতোনাতা সকলই পাথরে গাঁথা, তাহাদেরই বলা চলে দেয়ালি। আলো যার মিট্মিটে, স্বভাবটা খিট্খিটে, বড়োকে করিতে চায় ছোটো, সব ছবি ভুষো মেজে কালো ক'রে নিজেকে যে মনে করে ওস্তাদ পোটো, বিধাতার অভিশাপে ঘুরে মরে ঝোপে-ঝাপে স্বভাবটা যার বদখেয়ালি, খ্যাঁক্ খ্যাঁক্ করে মিছে, সব-তাতে দাঁত খিঁচে, তারে নাম দিব খ্যাঁক্শেয়ালি। দিনখাটুনির শেষে বৈকালে ঘরে এসে আরাম-কেদারা যদি মেলে-- গল্পটি মনগড়া, কিছু বা কবিতা পড়া, সময়টা যায় হেসে খেলে-- দিয়ে জুঁই বেল জবা সাজানো সুহৃদসভা, আলাপ-প্রলাপ চলে দেদারই-- ঠিক সুরে তার বাঁধা, মূলতানে তান সাধা, নাম দিতে পারি তবে কেদারি।
আমার মূর্তি পূর্ণ করি মুক্তি পেল' তোমার শক্তি, রেখায় রেখায় নিত্য শিখায় দীপ্তি পেল তোমার ভক্তি। চক্ষে তোমার প্রাণের মন্ত্র, তাই তো তোমার ধ্যানের দৃষ্টি তোমার রসে আমার রূপে রচিল এই নূতন সৃষ্টি।