বজ্র যথা বর্ষণেরে আনে অগ্রসরি কে জানিত তব শোক সেইমতো করি আনি দিবে অকস্মাৎ জীবনে আমার বাধাহীন মিলনের নিবিড় সঞ্চার! মোর অশ্রুবিন্দুগুলি কুড়ায়ে আদরে গাঁথিয়া সীমন্তে পরি ব্যর্থশোক-'পরে নীরবে হানিছ তব কৌতুকের হাসি। ক্রমে সবা হতে যত দূরে গেলে ভাসি তত মোর কাছে এলে। জানি না কী করে সবারে বঞ্চিয়া তব সব দিলে মোরে। মৃত্যু-মাঝে আপনারে করিয়া হরণ আমার জীবনে তুমি ধরেছ জীবন, আমার নয়নে তুমি পেতেছ আলোক-- এই কথা মনে জানি নাই মোর শোক।
বহুরে যা এক করে, বিচিত্রেরে করে যা সরস, প্রভূতেরে করি আনে নিজ ক্ষুদ্র তর্জনীর বশ, বিবিধপ্রয়াসক্ষুব্ধ দিবসেরে লয়ে আসে ধীরে সুপ্তিসুনিবিড় শান্ত স্বর্ণময় সন্ধ্যার তিমিরে ধ্রুবতারাদীপদীপ্ত সুতৃপ্ত নিভৃত অবসানে, বহুবাক্যব্যাকুলতা ডুবায় যা একখানি গানে বেদনার সুধারসে-সে প্রেম হতে মোরে, প্রিয়া, রেখো না বঞ্চিত করি; প্রতিদিন থাকিয়ো জাগিয়া; আমার দিনান্ত-মাঝে কঙ্কণের কনককিরণ নিদ্রার আঁধারপটে আঁকি দিবে সোনার স্বপন; তোমার চরণপাত মোর স্তব্ধ সায়াহ্ন-আকাশে নিঃশব্দে পড়িবে ধরা আরক্তিম অলক্ত-আভাসে; এ জীবন নিয়ে যাবে অনিমেষ নয়নের টানে তোমার আপন কক্ষে পরিপূর্ণ মরণের পানে।