সকলে আমার কাছে যত কিছু চায় সকলেরে আমি তাহা পেরেছি কি দিতে! আমি কি দিই নি ফাঁকি কত জনে হায়, রেখেছি কত-না ঋণ এই পৃথিবীতে। আমি তবে কেন বকি সহস্র প্রলাপ, সকলের কাছে চাই ভিক্ষা কুড়াইতে! এক তিল না পাইলে দিই অভিশাপ, অমনি কেন রে বসি কাতরে কাঁদিতে! হা ঈশ্বর, আমি কিছু চাহি নাকো আর, ঘুচাও আমার এই ভিক্ষার বাসনা। মাথায় বহিয়া লয়ে চির ঋণভার "পাইনি' "পাইনি' বলে আর কাঁদিব না। তোমারেও মাগিব না, অলস কাঁদনি-- আপনারে দিলে তুমি আসিবে আপনি।
যে চৈতন্যজ্যোতি প্রদীপ্ত রয়েছে মোর অন্তরগগনে নহে আকস্মিক বন্দী প্রাণের সংকীর্ণ সীমানায়, আদি যার শূন্যময়, অন্তে যার মৃত্যু নিরর্থক, মাঝখানে কিছুক্ষণ যাহা-কিছু আছে তার অর্থ যাহা করে উদ্ভাসিত। এ চৈতন্য বিরাজিত আকাশে আকাশে আনন্দ-অমৃতরূপে-- আজি প্রভাতের জাগরণে এ বাণী উঠিল বাজি মর্মে মর্মে মোর, এ বাণী গাঁথিয়া চলে সূর্য গ্রহ তারা অস্খলিত ছন্দসূত্রে অনিঃশেষ সৃষ্টির উৎসবে।