ঝড়ে যায় উড়ে যায় গো আমার মুখের আঁচলখানি। ঢাকা থাকে না হায় গো, তারে রাখতে নারি টানি। আমার রইল না লাজলজ্জা, আমার ঘুচল গো সাজসজ্জা তুমি দেখলে আমারে এমন প্রলয়মাঝে আনি, আমায় এমন মরণ হানি। হঠাৎ আকাশ উজলি' কারে খুঁজে কে ওই চলে। চমক লাগায় বিজলি আমার আঁধার ঘরের তলে। তবে নিশীথ-গগন জুড়ে আমার যাক সকলি উড়ে, এই দারুণ কল্লোলে বাজুক আমার প্রাণের বাণী কোনো বাঁধন নাহি মানি।
উইলি পিয়র্সন্ বন্ধুবরেষু আপনারে তুমি সহজে ভুলিয়া থাক, আমরা তোমারে ভুলিতে পারি না তাই। সবার পিছনে নিজের গোপনে রাখ, আমরা তোমারে প্রকাশ করিতে চাই। ছোটোরে কখনো ছোট নাহি কর মনে, আদর করিতে জান অনাদৃত জনে, প্রীতি তব কিছু না চাহে নিজের জন্য, তোমারে আদরি আপনারে করি ধন্য। স্নেহাসক্ত শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
"কে নিবি গো কিনে আমায়, কে নিবি গো কিনে?" পসরা মোর হেঁকে হেঁকে বেড়াই রাতে দিনে। এমনি কবে হায়, আমার দিন যে চলে যায়, মায়ার 'পরে বোঝা আমার বিষম হল দায়। কেউ বা আসে, কেউ বা হাসে, কেউ বা কেঁদে চায়। মধ্যদিনে বেড়াই রাজার পাষাণ-বাঁধা পথে, মুকুট-মাথে অস্ত্র-হাতে রাজা এল রথে। বললে হাতে ধরে, "তোমায় কিনব আমি জোরে।" জোর যা ছিল ফুরিয়ে গেল টানাটানি করে। মুকুট-মাথে ফিরল রাজা সোনার রথে চড়ে। রুদ্ধ্ব দ্বারের সমুখ দিয়ে ফিরতেছিলেম গলি। দুয়ার খুলে বৃদ্ধ এল হাতে টাকার থলি। করলে বিবেচনা, বললে, "কিনব দিয়ে সোনা।" উজাড় করে দিয়ে থলি করলে আনাগোনা। বোঝা মাথায় নিয়ে কোথায় গেলেম অন্যমনা। সন্ধ্যাবেলায় জ্যোৎস্না নামে মুকুল-ভরা গাছে। সুন্দরী সে বেরিয়ে এল বকুলতলার কাছে। বললে কাছে এসে, "তোমায় কিনব আমি হেসে।" হাসিখানি চোখের জলে মিলিয়ে এল শেষে; ধীরে ধীরে ফিরে গেল বনছায়ার দেশে। সাগরতীরে রোদ পড়েছে ঢেউ দিয়েছে জলে, ঝিনুক নিয়ে খেলে শিশু বালুতটের তলে। যেন আমায় চিনে বললে, "অমনি নেব কিনে।" বোঝা আমার খালাস হল তখনি সেইদিনে। খেলার মুখে বিনামূল্যে নিল আমায় জিনে।