আমার দিনের শেষ ছায়াটুকু মিশাইলে মূলতানে-- গুঞ্জন তার রবে চিরদিন, ভুলে যাবে তার মানে। কর্মক্লান্ত পথিক যখন বসিবে পথের ধারে এই রাগিণীর করুণ আভাস পরশ করিবে তারে, নীরবে শুনিবে মাথাটি করিয়া নিচু; শুধু এইটুকু আভাসে বুঝিবে, বুঝিবে না আর কিছু-- "বিস্মৃত যুগে দুর্লভ ক্ষণে বেঁচেছিল কেউ বুঝি, আমরা যাহার খোঁজ পাই নাই তাই সে পেয়েছে খুঁজি।'
আমার এ মানসের কানন কাঙাল শীর্ণ শুষ্ক বাহু মেলি বহু দীর্ঘকাল আছে ক্রুদ্ধ ঊর্ধ্ব-পানে চাহি। ওহে নাথ, এ রুদ্র মধ্যাহ্ন-মাঝে কবে অকস্মাৎ পথিক পবন কোন্ দূর হতে এসে ব্যগ্র শাখাপ্রশাখায় চক্ষের নিমেষে কানে কানে রটাইবে আনন্দমর্মর, প্রতীক্ষায় পুলকিয়া বনবনান্তর। গম্ভীর মাভৈঃমন্দ্র কোথা হতে ব'হে তোমার প্রসাদপুঞ্জ ঘনসমারোহে ফেলিবে আচ্ছন্ন করি নিবিড়ছায়ায়। তার পরে বিপুল বর্ষণ। তার পরে পরদিন প্রভাতের সৌম্যরবিকরে রিক্ত মালঞ্চের মাঝে পূজাপুষ্পরাশি নাহি জানি কোথা হতে উঠিবে বিকাশি।