১৫ মে, ১৯৪০  কালিম্পং


 


সুবলদাদা আনল টেনে আদমদিঘির পাড়ে,

লাল বাঁদরের নাচন সেথায় রামছাগলের ঘাড়ে।

বাঁদরওয়ালা বাঁদরটাকে খাওয়ায় শালিধান্য,

রামছাগলের গম্ভীরতা কেউ করে না মান্য।

দাড়িটা তার নড়ে কেবল, বাজে রে ডুগডুগি।

কাৎলা মারে লেজের ঝাপট, জল ওঠে বুগবুগি।

রামছাগলের ভারি গলায় ভ্যাভ্যা রবের ডাকে

সুড়সুড়ি দেয় থেকে থেকে চৌকিদারের নাকে।

হাঁচির পরে বারে বারে যতই হাঁচি ছাড়ে

বাতাসেতে ঘন ঘন কোদাল যেন পাড়ে।

হাঁচির পরে সারি সারি হাঁচি নামার চোটে

তেঁতুলবনে ঝড়ের দমক যেন মাথা কোটে,

গাছের থেকে ইঁচড়গুলো খসে খসে পড়ে,

তালের পাতা ডাইনে বাঁয়ে পাখার মতো নড়ে।

দত্তবাড়ির ঘাটের কাছে যেমনি হাঁচি পড়া,

আঁৎকে উঠে কাঁখের থেকে বউ ফেলে দেয় ঘড়া।

কাকেরা হয় হতবুদ্ধি, বকের ভাঙে ধ্যান,

এজলাসেতে চমকে ওঠেন হরিমোহন সেন।

টেবিলেতে তুফান ওঠে চা-পেয়ালার তলে,

বিষম লেগে শৌখিনদের চোখ ভেসে যায় জলে।

বিদ্যালয়ের মঞ্চ-'পরে টাক-পড়া শির টলে--

পিঠ পেতে দেয়, চ'ড়ে বসে টেরিকাটার দলে।

গুঁতো মেরে চালায় তারে, সেলাম করে আদায়,

একটু এদিক-ওদিক হলে বিষম দাঙ্গা বাধায়।

লোকে বলে, কলঙ্কদল সূর্যলোকের আলো

দখল ক'রে জ্যোতির্লোকের নাম করেছে কালো।

তাই তো সবই উলট-পালট, উপর-নামন নীচে--

ভয়ে ভয়ে নিচু মাথায় সমুখটা যায় পিছে।

হাঁচির ধাক্কা এতখানি, এটা গুজব মিথ্যে--

এই নিয়ে সব কলেজপড়া বিজ্ঞানীদের চিত্তে

অল্প কিছু লাগল ধোঁকা; রাগল অপর পক্ষে--

বললে, পড়াশুনোয় কেবল ধুলো লাগায় চক্ষে,

অন্য দেশে অসম্ভব যা পুণ্য ভারতবর্ষে

সম্ভব নয় বলিস যদি প্রায়শ্চিত্ত কর্‌ সে।

এর পরে দুই দলে মিলে ইঁট পাটকেল ছোঁড়া--

চক্ষে দেখায় সর্ষের ফুল, কেউ বা হল খোঁড়া।

পুণ্য ভারতবর্ষে ওঠে বীরপুরষের বড়াই,

সমুদ্দুরের এ পারেতে একেই বলে লড়াই।

সিন্ধুপারে মৃত্যুনাটে চলছে নাচানাচি,

বাংলাদেশের তেঁতুলবনে চৌকিদারের হাঁচি।

সত্য হোক বা মিথ্যে হোক তা, আদমদিঘির পাড়ে

বাঁদর চড়ে বসে আছে রামছাগলের ঘাড়ে।

রামছাগলের দাড়ি নড়ে, বাজে রে ডুগডুগি--

কাৎলা মারে লেজের ঝাপট, জল ওঠে বুগবুগি।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •