মোর স্বপন-তরীর কে তুই নেয়ে। লাগল পালে নেশার হাওয়া, পাগল পরান চলে গেয়ে। আমায় ভুলিয়ে দিয়ে যা তোর দুলিয়ে দিয়ে না, ও তোর সুদূর ঘাটে চল্ রে বেয়ে। আমার ভাবনা তো সব মিছে, আমার সব পড়ে থাক্ পিছে। তোমারঘোমটা খুলে দাও তোমার নয়ন তুলে চাও, দাও হাসিতে মোর পরান ছেয়ে॥
অরূপ বীণা রূপের আড়ালে লুকিয়ে বাজে, সে বীণা আজি উঠিল বাজি' হৃদয়মাঝে॥ ভুবন আমার ভরিল সুরে, ভেদ ঘুচে যায় নিকটে দূরে, সেই রাগিণী লেগেছে আমার সকল কাজে॥ হাতে পাওয়ার চোখে চাওয়ার সকল বাঁধন, গেল কেটে আজ সফল হল সকল কাঁদন। সুরের রসে হারিয়ে যাওয়া সেই তো দেখা সেই তো পাওয়া, বিরহ মিলন মিলে গেল আজ সমান সাজে॥
তোমার দুয়ার খোলার ধ্বনি ওই গো বাজে হৃদয়মাঝে ॥ তোমার ঘরে নিশি-ভোরে আগল যদি গেল সরে আমার ঘরে রইব তবে কিসের লাজে?। অনেক বলা বলেছি, সে মিথ্যা বলা। অনেক চলা চলেছি, সে মিথ্যা চলা। আজ যেন সব পথের শেষে তোমার দ্বারে দাঁড়াই এসে-- ভুলিয়ে যেন নেয় না মোরে আপন কাজে ॥