মেঘ বলেছে 'যাব যাব', রাত বলেছে 'যাই', সাগর বলে 'কূল মিলেছে-- আমি তো আর নাই' ॥ দুঃখ বলে 'রইনু চুপে তাঁহার পায়ের চিহ্নরূপে', আমি বলে 'মিলাই আমি আর কিছু না চাই' ॥ ভুবন বলে 'তোমার তরে আছে বরণমালা', গগন বলে 'তোমার তরে লক্ষ প্রদীপ জ্বালা'। প্রেম বলে যে 'যুগে যুগে তোমার লাগি আছি জেগে', মরণ বলে 'আমি তোমার জীবনতরী বাই' ॥
শেষ নাহি যে, শেষ কথা কে বলবে? আঘাত হয়ে দেখা দিল, আগুন হয়ে জ্বলবে ॥ সাঙ্গ হলে মেঘের পালা শুরু হবে বৃষ্টি-ঢালা, বরফ-জমা সারা হলে নদী হয়ে গলবে ॥ ফুরায় যা তা ফুরায় শুধু চোখে, অন্ধকারের পেরিয়ে দুয়ার যায় চলে আলোকে। পুরাতনের হৃদয় টুটে আপনি নূতন উঠবে ফুটে, জীবনে ফুল ফোটা হলে মরণে ফল ফলবে ॥
আমি কেমন করিয়া জানাব আমার জুড়ালো হৃদয় জুড়ালো-- আমার জুড়ালো হৃদয় প্রভাতে। আমি কেমন করিয়া জানাব আমার পরান কী নিধি কুড়ালো-- ডুবিয়া নিবিড় গভীর শোভাতে ॥ আজ গিয়েছি সবার মাঝারে, সেথায় দেখেছি আলোক-আসনে-- দেখেছি আমার হৃদয়রাজারে। আমি দুয়েকটি কথা কয়েছি তা সনে সে নীরব সভা-মাঝারে-- দেখেছি চিরজনমের রাজারে ॥ এই বাতাস আমারে হৃদয়ে লয়েছে, আলোক আমার তনুতে কেমনে মিলে গেছে মোর তনুতে-- তাই এ গগন-ভরা প্রভাত পশিল আমার অণুতে অণুতে। আজ ত্রিভুবন-জোড়া কাহার বক্ষে দেহ মন মোর ফুরালো-- যেন রে নিঃশেষে আজি ফুরালো। আজ যেখানে যা হেরি সকলেরই মাঝে জুড়ালো জীবন জুড়ালো-- আমার আদি ও অন্ত জুড়ালো ॥