অবেলায় যদি এসেছ আমার বনে দিনের বিদায়ক্ষণে গেয়ো না, গেয়ো না চঞ্চল গান ক্লান্ত এ সমীরণে ঘন বকুলের ম্লান বীথিকায় শীর্ণ যে ফুল ঝ'রে ঝ'রে যায় তাই দিয়ে হার কেন গাঁথ হায়, লাজ বাসি তায় মনে। চেয়ো না, চেয়ো না মোর দীনতায় হেলায় নয়ন-কোণে॥ এসো এসো কাল রজনীর অবসানে প্রভাত-আলোর দ্বারে। যেয়ো না, যেয়ো না অকালে হানিয়া সকালে কলিকারে। এসো এসো যদি কভু সুসময় নিয়ে আসে তার ভরা সঞ্চয়, চিরনবীনের যদি ঘটে জয়--সাজি ভরা হয় ধনে। নিয়ো না, নিয়ো না মোর পরিচয় এ ছায়ার আবরণে॥
মোদের কিছু নাই রে নাই, আমরা ঘরে বাইরে গাই-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না। যতই দিবস যায় রে যায় গাই রে সুখে হায় রে হায়-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না। যারা সোনার চোরাবালির 'পরে পাকা ঘরের-ভিত্তি গড়ে তাদের সামনে মোরা গান গেয়ে যাই-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না॥ যখন থেকে থেকে গাঁঠের পানে গাঁঠকাটারা দৃষ্টি হানে তখন শূন্যঝুলি দেখায়ে গাই-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না॥ যখন দ্বারে আসে মরণবুড়ি মুখে তাহার বাজাই তুড়ি, তখন তান দিয়ে গান জুড়ি রে ভাই-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না। এ যে বসন্তরাজ এসেছে আজ, বাইরে তাহার উজ্জ্বল সাজ, ওরে, অন্তরে তার বৈরাগী গায়-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না। সে যে উৎসবদিন চুকিয়ে দিয়ে, ঝরিয়ে দিয়ে, শুকিয়ে দিয়ে, দুই রিক্ত হাতে তাল দিয়ে গায়-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না॥