মনের মধ্যে নিরবধি শিকল গড়ার কারখানা। একটা বাঁধন কাটে যদি বেড়ে ওঠে চারখানা।। কেমন ক’রে নামবে বোঝা, তোমার আপদ নয় যে সোজা– অন্তরেতে আছে যখন ভয়ের ভীষণ ভারখানা।।
রাতের আঁধার ঘোচে বটে বাতির আলো যেই জ্বালো, মূর্ছাতে যে আঁধার ঘটে রাতের চেয়ে ঘোর কালো। ঝড়-তুফানে ঢেউয়ের মারে তবু তরী বাঁচতে পারে, সবার বড়ো মার যে তোমার ছিদ্রটার ওই মারখানা।।
পর তো আছে লাখে লাখে, কে তাড়াবে নি:শেষে। ঘরের মধ্যে পর যে থাকে পর করে দেয় বিশ্বে সে। কারাগারের দ্বারী গেলে তখনি কি মুক্তি মেলে। আপনি তুমি ভিতর থেকে চেপে আছ দ্বারখানা।।
শূন্য ঝুলির নিয়ে দাবি রাগ ক’রে রোস্ কার ’পরে। দিতে জানিস তবেই পাবি, পাবি নে তো ধার ক’রে। লোভে ক্ষোভে উঠিস মাতি, ফল পেতে চাস রাতারাতি– আপন মুঠো করলে ফুটো আপন খাঁড়ার ধারখানা।।
ওগো এত প্রেম-আশা, প্রাণের তিয়াষা কেমনে আছে সে পাশরি। তবে সেথা কি হাসে না চাঁদিনী যামিনী, সেথা কি বাজে না বাঁশরি॥ সখী, হেথা সমীরণ লুটে ফুলবন, সেথা কি পবন বহে না। সে যে তার কথা মোরে কহে অনুক্ষণ, মোর কথা তারে কহে না! যদি আমারে আজি সে ভুলিবে সজনী, আমারে ভুলালে কেন সে। ওগো এ চিরজীবন করিব রোদন, এই ছিল তার মানসে! যবে কুসুমশয়নে নয়নে নয়নে কেটেছিল সুখরাতি রে, তবে কে জানিত তার বিরহ আমার হবে জীবনের সাথি রে। যদি মনে নাহি রাখে, সুখে যদি থাকে, তোরা একবার দেখে আয়-- এই নয়নের তৃষা, পরানের আশা, চরণের তলে রেখে আয়। আর নিয়ে যা রাধার বিরহের ভার, কত আর ঢেকে রাখি বল্। আর পারিস যদি তো আনিস হরিয়ে এক-ফোঁটা তার আঁখিজল। না না, এত প্রেম, সখী, ভুলিতে যে পারে তারে আর কেহ সেধো না। আমি কথা নাহি কব, দুখ লয়ে রব, মনে মনে স'ব বেদনা। ওগো মিছে মিছে, সখী, মিছে এই প্রেম, মিছে পরানের বাসনা। ওগো সুখদিন হায় যবে চলে যায় আর ফিরে আর আসে না ॥