আমার নিকড়িয়া-রসের রসিক কানন ঘুরে ঘুরে নিকড়িয়া বাঁশের বাঁশি বাজায় মোহন সুরে । আমার ঘর বলে, ‘তুই কোথায় যাবি, বাইরে গিয়ে সব খোয়াবি !’ আমার প্রাণ বলে, ‘তোর যা আছে সব যাক্-না উড়ে পুড়ে ।’ ওগো, যায় যদি তো যাক্-না চুকে, সব হারাব হাসিমুখে– আমি এই চলেছি মরণসুধা নিতে পরান পূরে । ওগো, আপন যারা কাছে টানে এ রস তারা কেই বা জানে– আমার বাঁকা পথের বাঁকা সে যে ডাক দিয়েছে দূরে । এবার বাঁকার টানে সোজার বোঝা পড়ুক ভেঙে-চুরে।।
মালা হতে খসে-পড়া ফুলের একটি দল মাথায় আমার ধরতে দাও গো ধরতে দাও। ওই মাধুরী-সরোবরের নাই যে কোথাও তল-- হোথায় আমায় ডুবতে দাও গো, মরতে দাও॥ দাও গো মুছে আমার ভালে অপমানের লিখা, নিভৃতে আজ বন্ধু, তোমার আপন হাতের টিকা ললাটে মোর পরতে দাও গো পরতে দাও॥ বহুক তোমার ঝড়ের হাওয়া আমার ফুলবনে, শুকনো পাতা মলিন কুসুম ঝরতে দাও। পথ জুড়ে যা পড়ে আছে আমার এ জীবনে দাও গো তাদের সরতে দাও গো, সরতে দাও। তোমার মহাভান্ডারেতে আছে অনেক ধন, কুড়িয়ে বেড়াই মুঠা ভ'রে, ভরে না তায় মন-- অন্তরেতে জীবন আমার ভরতে দাও॥
এতদিন যে বসেছিলেম পথ চেয়ে আর কাল গুনে দেখা পেলেম ফাল্গুনে॥ বালক বীরের বেশে তুমি করলে বিশ্বজয়-- এ কী গো বিস্ময়। অবাক আমি তরুণ গলার গান শুনে॥ গন্ধে উদাস হাওয়ার মতো উড়ে তোমার উত্তরী, কর্ণে তোমার কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরী। তরুণ হাসির আড়ালে কোন্ আগুন ঢাকা রয়-- এ কী গো বিস্ময়। অস্ত্র তোমার গোপন রাখ কোন্ তূণে॥