কোথা হতে শুনতে যেন পাই--, আকাশে আকাশে বলে 'যাই'॥ পাতায় পাতায় ঘাসে ঘাসে জেগে ওঠে দীর্ঘশ্বাসে 'হায়, তারা নাই, তারা নাই'॥ কত দিনের কত ব্যথা হাওয়ায় ছড়ায় ব্যাকুলতা। চলে যাওয়ার পথ যে দিকে সে দিক-পানে অনিমিখে আজ ফিরে চাই, ফিরে চাই॥
সকাল-বেলার কুঁড়ি আমার বিকালে যায় টুটে, মাঝখানে হায় হয় নি দেখা উঠল যখন ফুটে॥ ঝরা ফুলের পাপড়িগুলি ধুলো থেকে আনিস তুলি, যখন সময় ছিল দিল ফাঁকি-- এখন আন্ কুড়ায়ে দিনের শেষে অসময়ের ছিন্ন বাকি। কৃষ্ণরাতের চাঁদের কণা আঁধারকে দেয় যে সান্ত্বনা তাই নিয়ে মোর মিটুক আশা-- স্বপন গেছে ছুটে॥
হে অন্তরের ধন, তুমি যে বিরহী, তোমার শূন্য এ ভবন ॥ আমার ঘরে তোমায় আমি একা রেখে দিলাম স্বামী-- কোথায় যে বাহিরে আমি ঘুরি সকল ক্ষণ ॥ হে অন্তরের ধন, এই বিরহে কাঁদে আমার নিখিল ভুবন। তোমার বাঁশি নানা সুরে আমায় খুঁজে বেড়ায় দূরে, পাগল হল বসন্তের এই দখিন-সমীরণ ॥