আমার ভাঙা পথের রাঙা ধুলায় পড়েছে কার পায়ের চিহ্ন! তারি গলার মালা হতে পাপড়ি হোথা লুটায় ছিন্ন ॥ এল যখন সাড়াটি নাই, গেল চলে জানালো তাই-- এমন ক'রে আমারে হায় কে বা কাঁদায় সে জন ভিন্ন ॥ তখন তরুণ ছিল অরুণ আলো, পথটি ছিল কুসুমকীর্ণ। বসন্ত যে রঙিন বেশে ধরায় সে দিন অবতীর্ণ। সে দিন খবর মিলল না যে, রইনু বসে ঘরের মাঝে-- আজকে পথে বাহির হব বহি আমার জীবন জীর্ণ ॥
মনে হল যেন পেরিয়ে এলেম অন্তবিহীন পথ আসিতে তোমার দ্বারে মরুতীর হতে সুধাশ্যামলিম পারে॥ পথ হতে আমি গাঁথিয়া এনেছি সিক্ত যূথীর মালা সকরুণ-নিবেদনের-গন্ধ ঢালা-- লজ্জা দিয়ো না তারে॥ সজল মেঘের ছায়া ঘনাইছে বনে বনে, পথ-হারানোর বাজিছে বেদনা সমীরণে। দূরে হতে আমি দেখেছি তোমার ওই বাতায়নতলে নিভৃতে প্রদীপ জ্বলে-- আমার এ আঁখি উৎসুক পাখি ঝড়ের অন্ধকারে॥