রয় যে কাঙাল শূন্য হাতে, দিনের শেষে দেয় সে দেখা নিশীথরাতে স্বপনবেশে॥ আলোয় যারে মলিনমুখে মৌন দেখি আঁধার হলে আঁখিতে তার দীপ্তি একি-- বরণমালা কে যে দোলায় তাহার কেশে॥ দিনের বীণায় যে ক্ষীণ তারে ছিল হেলা ঝঙ্কারিয়া ওঠে যে তাই রাতের বেলা। তন্দ্রাহারা অন্ধকারের বিপুল গানে মন্দ্রি ওঠে সারা আকাশ কী আহ্বানে-- তারার আলোয় কে চেয়ে রয় নির্নিমেষে॥
সুখের মাঝে তোমায় দেখেছি, দুঃখে তোমায় পেয়েছি প্রাণ ভ’রে। হারিয়ে তোমায় গোপন রেখেছি, পেয়ে আবার হারাই মিলনঘোরে।। চিরজীবন আমার বীণা-তারে তোমার আঘাত লাগল বারে বারে, তাই তো আমার নানা সুরের তানে প্রাণে তোমার পরশ নিলেম ধ’রে।। আজ তো আমি ভয় করি নে আর লীলা যদি ফুরায় হেথাকার। নূতন আলোয় নূতন অন্ধকারে লও যদি বা নূতন সিন্ধুপারে তবু তুমি সেই তো আমার তুমি– আবার তোমায় চিনব নূতন ক’রে।।