সে জন কে, সখী, বোঝা গেছে, আমাদের সখী যারে মনপ্রাণ সঁপেছে। ও সে কে, কে, কে। ওই যে তরুতলে, বিনোদ-মালা গলে, না জানি কোন্ ছলে বসে রয়েছে। সখী কী হবে, ও কি কাছে আসিবে কভু, কথা কবে। ও কি প্রেম জানে, ও কি বাঁধন মানে। ও কী মায়াগুণে মন লয়েছে। বিভল আঁখি তুলে আঁখি পানে চায়, যেন কী পথ ভুলে এল কোথায়। (ওগো) যেন কী গানের স্বরে, শ্রবণ আছে ভরে, যেন কোন্ চাঁদের আলোয় মগ্ন হয়েছে।
আজ নবীন মেঘের সুর লেগেছে আমার মনে। আমার ভাবনা যত উতল হল অকারণে॥ কেমন ক'রে যায় যে ডেকে, বাহির করে ঘরের থেকে, ছায়াতে চোখ ফেলে ছেয়ে ক্ষণে ক্ষণে॥ বাঁধনহারা জলধারার কলরোলে আমারে কোন্ পথের বাণী যায় যে ব'লে। সে পথ গেছে নিরুদ্দেশে মানসলোকে গানের শেষে চিরদিনের বিরহিণীর কুঞ্জবনে॥
দুঃখ যদি না পাবে তো দুঃখ তোমার ঘুচবে কবে? বিষকে বিষের দাহ দিয়ে দহন করে মারতে হবে। জ্বলতে দে তোর আগুনটারে, ভয় কিছু না করিস তারে, ছাই হয়ে সে নিভবে যখন জ্বলবে না আর কভু তবে। এড়িয়ে তাঁরে পালাস না রে ধরা দিতে হোস না কাতর। দীর্ঘ পথে ছুটে কেবল দীর্ঘ করিস দুঃখটা তোর মরতে মরতে মরণটারে শেষ করে দে একেবারে, তার পরে সেই জীবন এসে আপন আসন আপনি লবে।