তুমি একটু কেবল বসতে দিয়ো কাছে আমায় শুধু ক্ষণেক তরে। আজি হাতে আমার যা কিছু কাজ আছে আমি সাঙ্গ করব পরে। না চাহিলে তোমার মুখপানে হৃদয় আমার বিরাম নাহি জানে, কাজের মাঝে ঘুরে বেড়াই যত ফিরি কূলহারা সাগরে॥ বসন্ত আজ উচ্ছ্বাসে নিশ্বাসে এল আমার বাতায়নে। অলস ভ্রমর গুঞ্জরিয়া আসে ফেরে কুঞ্জের প্রাঙ্গণে। আজকে শুধু একান্তে আসীন চোখে চোখে চেয়ে থাকার দিন, আজকে জীবন-সমর্পণের গান গাব নীরব অবসরে॥
এ ভালোবাসার যদি দিতে প্রতিদান-- একবার মুখ তুলে চাহিয়া দেখিতে যদি যখন দুখের জল বর্ষিত নয়ান-- শ্রান্ত ক্লান্ত হয়ে যবে ছুটে আসিতাম, সখী, ওই মধুময় কোলে দিতে যদি স্থান-- তা হলে, তা হলে, সখী, চিরজীবনের তরে দারুণযাতনাময় হ'ত না পরান। একটি কথায় তব একটু স্নেহের স্বরে যদি যায় জুড়াইয়া হৃদয়ের জ্বালা, তবে সেইটুকু, সখী, কোরো অভাগার তরে-- নহিলে হৃদয় যাবে ভেঙেচুরে বালা! একবার মুখ তুলে চেয়ো এ মুখের পানে-- মুছায়ে দিয়ো গো, সখী, নয়নের জল-- তোমার স্নেহের ছায়ে আশ্রয় দিয়ো গো মোরে, আমার হৃদয় মন বড়োই দুর্বল। সংসারের স্রোতে ভেসে কত দূর যাব চলে-- আমি কোথা রব আর তুমি কোথা রবে। কত বর্ষ হবে গত, কত সূর্য হবে অস্ত, আছিল নূতন যাহা পুরাতন হবে। তখন সহসা যদি দেখা হয় দুইজনে-- আসি যদি কহিবারে মরমের ব্যথা-- তখন সঙ্কোচভরে দূরে কি যাইবে সরে। তখন কি ভালো করে কবে নাকো কথা।