দেহে আর মনে প্রাণে হয়ে একাকার একি অপরূপ লীলা এ অঙ্গে আমার! একি জ্যোতি, একি ব্যোম দীপ্ত দীপ-জ্বালা দিন আর রজনীর চিরনাট্যশালা! একি শ্যাম বসুন্ধরা, সমুদ্রে চঞ্চল, পর্বতে কঠিন, তরুপল্লবে কোমল, অরণ্যে আঁধার! একি বিচিত্র বিশাল অবিশ্রাম রচিতেছে সৃজনের জাল আমার ইন্দ্রিয়যন্ত্রে ইন্দ্রজালবৎ! প্রত্যেক প্রাণীর মাঝে প্রকাণ্ড জগৎ। তোমারি মিলনশয্যা, হে মোর রাজন্, ক্ষুদ্র এ আমার মাঝে অনন্ত আসন অসীম বিচিত্রকান্ত। ওগো বিশ্বভূপ, দেহে মনে প্রাণে আমি একি অপরূপ!
অজস্র দিনের আলো, জানি, একদিন দু চক্ষুরে দিয়েছিলে ঋণ। ফিরায়ে নেবার দাবি জানায়েছ আজ তুমি, মহারাজ। শোধ করে দিতে হবে জানি, তবু কেন সন্ধ্যাদীপে ফেল ছায়াখানি। রচিলে যে আলো দিয়ে তব বিশ্বতল আমি সেথা অতিথি কেবল। হেথা হোথা যদি পড়ে থাকে কোনো ক্ষুদ্র ফাঁকে নাই হল পুরা সেটুকু টুকুরা-- রেখে যেয়ো ফেলে অবহেলে, যেথা তব রথ শেষ চিহ্ন রেখে যায় অন্তিম ধুলায় সেথায় রচিতে দাও আমার জগৎ। অল্প কিছু আলো থাক্, অল্প কিছু ছায়া আর কিছু মায়া। ছায়াপথে লুপ্ত আলোকের পিছু হয়তো কুড়ায়ে পাবে কিছু-- কণামাত্র লেশ তোমার ঋণের অবশেষ।