তোমরা যুগল প্রেমে রচিতেছ যে আশ্রমখানি আমি কবি তার পরে দিনু মোর আশীর্বাদ আনি। মিলন সুন্দর হোক্ সংসারের বাধা হোক্ দূর জীবন-যাত্রার পথ হোক্ শুভ হোক্ অবন্ধুর।
হৃদয় আমার প্রকাশ হল অনন্ত আকাশে। বেদন-বাঁশি উঠল বেজে বাতাসে বাতাসে। এই যে আলোর আকুলতা আমারি এ আপন কথা, উদাস হয়ে প্রাণে আমার আবার ফিরে আসে। বাইরে তুমি নানা বেশে ফের নানান ছলে; জানি নে তো আমার মালা দিয়েছি কার গলে। আজ কী দেখি পরানমাঝে তোমার গলায় সব মালা যে, সব নিয়ে শেষ ধরা দিলে গভীর সর্বনাশে। সেই কথা আজ প্রকাশ হল অনন্ত আকাশে।
কাল প্রাতে মোর জন্মদিনে এ শৈল-আতিথ্যবাসে বুদ্ধের নেপালী ভক্ত এসেছিল মোর বার্তা শুনে। ভূতলে আসন পাতি বুদ্ধের বন্দনামন্ত্র শুনাইল আমার কল্যাণে-- গ্রহণ করিনু সেই বাণী। এ ধারায় জন্ম নিয়ে যে মহামানব সব মানবের জন্ম সার্থক করেছে একদিন, মানুষের জন্মক্ষণ হতে নারায়ণী এ ধরণী যাঁর আবির্ভাব লাগি অপেক্ষা করেছে বহু যুগ, যাঁহাতে প্রত্যক্ষ হল ধরায় সৃষ্টির অভিপ্রায়, শুভক্ষণে পুণ্যমন্ত্রে তাঁহারে স্মরণ করি জানিলাম মনে-- প্রবেশি মানবলোকে আশি বর্ষ আগে এই মহাপুরুষের পুণ্যভাগী হয়েছি আমিও।