এই কথাটা ধরে রাখিস মুক্তি তোরে পেতেই হবে, যে পথ গেছে পারের পানে সে পথে তোর যেতেই হবে। অভয়-মনে কণ্ঠ ছাড়ি গান গেয়ে তুই দিবি পাড়ি, খুশি হয়ে ঝড়ের হাওয়ায় ঢেউ যে তোরে খেতেই হবে। পাকের ঘোরে ঘোরায় যদি ছুটি তোরে পেতেই হবে। চলার পথে কাঁটা থাকে দ'লে তোমায় যেতেই হবে। সুখের আশা আঁকড়ে লয়ে মরিস নে তুই ভয়ে ভয়ে, জীবনকে তোর ভরে নিতে মরণ-আঘাত খেতেই হবে।
অনেক হল দেরি, আজো তবু দীর্ঘ পথের অন্ত নাহি হেরি। তখন ছিল দখিন হাওয়া আধ-ঘুমো আধ-জাগা, তখন ছিল সর্ষে-খেতে ফুলের আগুন লাগা, তখন আমি মালা গেঁথে পদ্মপাতায় ঢেকে পথে বাহির হয়েছিলেম রুদ্ধ কুটির থেকে। অনেক হল দেরি, আজো তবু দীর্ঘ পথের অন্ত নাহি হেরি। বসন্তের সে মালা আজ কি তেমন গন্ধ দেবে নবীন-সুধা-ঢালা? আজকে বহে পুবে বাতাস, মেঘে আকাশ জুড়ে-- ধানের খেতে ঢেউ উঠেছে নব-নবাঙ্কুরে। হাওয়ায় হাওয়ায় নাইকো রে হায় হালকা সে হিল্লোল, নাই বাগানে হাস্যে গানে পাগল গণ্ডগোল। অনেক হল দেরি, আজো তবু দীর্ঘ পথের অন্ত নাহি হেরি। হল কালের ভুল, পুবে হাওয়ায় ধরে দিলেম দখিন হাওয়ার ফুল। এখন এল অন্য সুরে অন্য গানের পালা, এখন গাঁথো অন্য ফুলে অন্য ছাঁদের মালা। বাজছে মেঘের গুরু গুরু, বাদল ঝরো ঝরো-- সজল বায়ে কদম্ববন কাঁপছে থরোথরো। অনেক হল দেরি, আজো তবু দীর্ঘ পথের অন্ত নাহি হেরি।