তোমারে দিব না দোষ। জানি মোর ভাগ্যের ভ্রূকুটি, ক্ষুদ্র এই সংসারের যত ক্ষত, যত তার ত্রুটি, যত ব্যথা আঘাত করিছে তব পরম সত্তারে অহরহ। জানি যে তুমি তো নাই ছাড়ায়ে আমারে নির্লিপ্ত সুদূর স্বর্গে। আমি মোর তোমাতে বিরাজে; দেওয়া-নেওয়া নিরন্তর প্রবাহিত তুমি-আমি-মাঝে দুর্গম বাধারে অতিক্রমি। আমার সকল ভার রাত্রিদিন রয়েছে তোমারি 'পরে, আমার সংসার সে শুধু আমারি নহে। তাই ভাবি এই ভার মোর যেন লঘু করি নিজবলে, জটিল বন্ধনডোর একে একে ছিন্ন করি যেন, মিলিয়া সহজ মিলে দ্বন্দ্বহীন বন্ধহীন বিচরণ করি এ নিখিলে না চেয়ে আপনা-পানে। অশান্তিরে করি দিলে দূর তোমাতে আমাতে মিলি ধ্বনিয়া উঠিবে এক সুর।
যতবার আলো জ্বালাতে চাই নিবে যায় বারে বারে। আমার জীবনে তোমার আসন গভীর অন্ধকারে। যে লতাটি আছে শুকায়েছে মূল কুঁড়ি ধরে শুধু, নাহি ফোটে ফুল, আমার জীবনে তব সেবা তাই বেদনার উপহারে। পূজাগৌরব পুণ্যবিভব কিছু নাহি, নাহি লেশ, এ তব পূজারি পরিয়া এসেছে লজ্জার দীন বেশ। উৎসবে তার আসে নাই কেহ, বাজে নাই বাঁশি, সাজে নাই গেহ-- কাঁদিয়া তোমায় এনেছে ডাকিয়া ভাঙা মন্দির-দ্বারে।