ওগো সুখী প্রাণ, তোমাদের এই ভব-উৎসব-ঘরে অচেনা অজানা পাগল অতিথি এসেছিল ক্ষণতরে। ক্ষণেকের তরে বিস্ময়-ভরে চেয়েছিল চারি দিকে বেদনা-বাসনা-ব্যাকুলতা-ভরা তৃষাতুর অনিমিখে। উৎসববেশ ছিল না তাহার, কন্ঠে ছিল না মালা, কেশপাশ দিয়ে বাহিরিতেছিল দীপ্ত অনলজ্বালা। তোমাদের হাসি তোমাদের গান থেমে গেল তারে দেখে, শুধালে না কেহ পরিচয় তার, বসালে না কেহ ডেকে। কী বলিতে গিয়ে বলিল না আর, দাঁড়ায়ে রহিল দ্বারে-- দীপালোক হতে বাহিরিয়া গেল বাহির-অন্ধকারে। তার পরে কেহ জান কি তোমরা কী হইল তার শেষে? কোন্ দেশ হতে এসে চলে গেল কোন্ গৃহহীন দেশে!
হে সুন্দরী, হে শিখা মহতী, তোমার অরূপ জ্যোতি রূপ লবে আমার জীবনে, তারি লাগি একমনে রচিলাম এই দীপখানি, মূর্তিমতী এই মোর অভ্যর্থনাবাণী। এসো এসো করো অধিষ্ঠান মোর দীর্ঘ জীবনের করো গো চরম বরদান। হয় নাই যোগ্য তব, কতবার ভাঙিয়াছি আবার গড়েছি অভিনব -- মোর শক্তি আপনারে দিয়েছে ধিক্কার। সময় নাহি যে আর, নিদ্রাহারা প্রহর-যে একে একে হয় অপগত, তাই আজ সমাপিনু ব্রত। গ্রহণ করো এ মোর চিরজীবনের রচনারে ক্ষণকাল স্পর্শ করো তারে। তার পরে রেখে যাব এ জন্মের এক সার্থকতা, চিরন্তন সুখ মোর, এই মোর চিরন্তন ব্যথা।