পথের পথিক করেছ আমায় সেই ভালো ওগো, সেই ভালো। আলেয়া জ্বালালে প্রান্তরভালে সেই আলো মোর সেই আলো। ঘাটে বাঁধা ছিল খেয়াতরী, তাও কি ডুবালে ছল করি। সাঁতারিয়া পার হব বহি ভার সেই ভালো মোর সেই ভালো। ঝড়ের মুখে যে ফেলেছ আমায় সেই ভালো ওগো, সেই ভালো। সব সুখজালে বজ্র জ্বালালে সেই আলো মোর সেই আলো। সাথি যে আছিল নিলে কাড়ি-- কী ভয় লাগালে, গেল ছাড়ি-- একাকীর পথে চলিব জগতে সেই ভালো মোর সেই ভালো। কোনো মান তুমি রাখ নি আমার সেই ভালো ওগো, সেই ভালো। হৃদয়ের তলে যে আগুন জ্বলে সেই আলো মোর সেই আলো। পাথেয় যে ক'টি ছিল কড়ি পথে খসি কবে গেছে পড়ি, শুধু নিজবল আছে সম্বল সেই ভালো মোর সেই ভালো।
ওকালতি ব্যবসায়ে ক্রমশই তার জমেছিল একদিন মস্ত পসার। ভাগ্যটা ঘাটে ঘাটে কী করিয়া শেষে একদা জজের পদে ঠেকেছিল এসে। সদাই বাড়িতে তার মহা ধুমধাম, মুখে মুখে চারি দিকে রটে গেছে নাম। আজ সে তো কালীনাথ, আগে ছিল কেলে-- কাউকে ফাঁসিতে দেয় কাউকে বা জেলে। ক্লাসে ছিল একদিন একেবারে নিচু, মাস্টার বলতেন হবে নাকো কিছু। সব চেয়ে বোকারাম, সব চেয়ে হাঁদা-- দুষ্টুমি বুদ্ধিটা ছিল তার সাধা! ক্লাসে ছিল বিখ্যাত তারি দৃষ্টান্ত, সেই ইতিহাস তার সকলেই জানত। একদিন দেখা গেল ছুটির বিকালে ফলে ভরা আম গাছে একা বসি ডালে কামড় লাগাতেছিল পাকা পাকা আমে-- ডাক পাড়ে মাস্টার, কিছুতে না নামে। আম পেড়ে খেতে তোরে করেছি বারণ, সে কথা শুনিস নে যে বল্ কী কারণ। কালু বলে, পেড়ে আমি খাই নে তো তাই, ডালে ব'সে ব'সে ফল ক'ষে কামড়াই। মাস্টার বলে তারে, আয় তুই নাবি-- যত ফল খেয়েছিস তত চড় খাবি! কালু বলে, পালিয়াছি গুরুর আদেশ এই শাস্তিই যদি হয় তার শেষ, তা হলে তো ভালো নয় পড়াশুনা করা-- গুরুর বচন শুনে চড় খেয়ে মরা।