আজ এই দিনের শেষে সন্ধ্যা যে ওই মানিকখানি পরেছিল চিকন কালো কেশে গেঁথে নিলেম তারে এই তো আমার বিনিসুতার গোপন গলার হারে। চক্রবাকের নিদ্রানীরব বিজন পদ্মাতীরে এই সে সন্ধ্যা ছুঁইয়ে গেল আমার নতশিরে নির্মাল্য তোমার আকাশ হয়ে পার; ওই যে মরি মরি তরঙ্গহীন স্রোতের 'পরে ভাসিয়ে দিল তারার ছায়াতরী; ওই যে সে তার সোনার চেলি দিল মেলি রাতের আঙিনায় ঘুমে অলস কায়; ওই যে শেষে সপ্তঋষির ছায়াপথে কালো ঘোড়ার রথে উড়িয়ে দিয়ে আগুন-ধূলি নিল সে বিদায়; একটি কেবল করুণ পরশ রেখে গেল একটি কবির ভালে; তোমার ওই অনন্ত মাঝে এমন সন্ধ্যা হয় নি কোনোকালে, আর হবে না কভু। এমনি করেই প্রভু এক নিমেষের পত্রপুটে ভরি চিরকালের ধনটি তোমার ক্ষণকালে লও যে নূতন করি।
মুক্ত করো, মুক্ত করো নিন্দা-প্রশংসার দুশ্ছেদ্য শৃঙ্খল হতে। সে কঠিন ভার যদি খসে যায় তবে মানুষের মাঝে সহজে ফিরিব আমি সংসারের কাজে-- তোমারি আদেশ শুধু জয়ী হবে নাথ। তোমার চরণপ্রান্তে করি প্রণিপাত তব দন্ড পুরস্কার অন্তরে গোপনে লইব নীরবে তুলি-- নিঃশব্দ গমনে চলে যাব কর্মক্ষেত্র-মাঝখান দিয়া বহিয়া অসংখ্য কাজে একনিষ্ঠ হিয়া, সঁপিয়া অব্যর্থ গতি সহস্র চেষ্টায় এক নিত্য ভক্তিবলে, নদী যথা ধায় লক্ষ লোকালয়-মাঝে নানা কর্ম সারি সমুদ্রের পানে লয়ে বন্ধহীন বারি।