চতুর্দশী এল নেমে পূর্ণিমার প্রান্তে এসে গেল থেমে। অপূর্ণের ঈষৎ আভাসে আপন বলিতে তারে মর্তভূমি শঙ্কা নাহি বাসে। এ ধরার নির্বাসনে কুণ্ঠার গুণ্ঠন নাই, ভীরুতা নাইকো তার মনে, সংসারজনতা-মাঝে আপনাতে আপনি বিরাজে। দুঃখে শোকে অবিচল, ধৈর্য তার প্রফুল্লতা-ভরা, সকল উদ্বেগভারহরা। রোগ যদি আসে রুখে সকরুণ শান্ত হাসি লেগে থাকে গ্লানিহীন মুখে। দুর্যোগ মেঘের মতো নীচে দিয়ে বহে যায় কত বারে বারে, প্রভা তার মুছিতে না পারে। তবু তার মহিমায় কিছু আছে বাকি, সেইখানে রাখে ঢাকি অশ্রুজল বিষাদ-ইঙ্গিতে-ছোঁওয়া ঈষৎ বিহ্বল। কণামাত্র সে-ক্ষীণতা নাহি কহে কথা, কেহ না দেখিতে পায় নিত্য যারা ফিরে আছে তায়। অমরার অসীমতা মাটিতে নিয়েছে সীমা-- নাম কি প্রতিমা।
নদীর পালিত এই জীবন আমার। নানা গিরিশিখরের দান নাড়ীতে নাড়ীতে তার বহে, নানা পলিমাটি দিয়ে ক্ষেত্র তার হয়েছে রচিত, প্রাণের রহস্যরস নানা দিক হতে শস্যে শস্যে লভিল সঞ্চার। পূর্বপশ্চিমের নানা গীতস্রোতজালে ঘেরা তার স্বপ্ন জাগরণ। যে নদী বিশ্বের দূতী দূরকে নিকটে আনে, অজানার অভ্যর্থনা নিয়ে আসে ঘরের দুয়ারে। সে আমার রচেছিল জন্মদিন-- চিরদিন তার স্রোতে বাঁধন-বাহিরে মোর চলমান বাসা ভেসে চলে তীর হতে তীরে। আমি ব্রাত্য, আমি পথচারী, অবারিত আতিথ্যের অন্নে পূর্ণ হয়ে ওঠে বারে বারে নির্বিচারে মোর জন্মদিবসের থালি।