নানা গান গেয়ে ফিরি নানা লোকালয়; হেরি সে মত্ততা মোর বৃদ্ধ আসি কয়, "তাঁর ভৃত্য হয়ে তোর এ কী চপলতা। কেন হাস্য-পরিহাস, প্রণয়ের কথা, কেন ঘরে ঘরে ফিরি তুচ্ছ গীতরসে ভুলাস এ সংসারের সহস্র অলসে।' দিয়েছি উত্তর তাঁরে, "ওগো পক্ককেশ, আমার বীণায় বাজে তাঁহারি আদেশ। যে আনন্দে যে অনন্ত চিত্তবেদনায় ধ্বনিত মানবপ্রাণ, আমার বীণায় দিয়েছেন তারি সুর-- সে তাঁহারি দান। সাধ্য নাই নষ্ট করি সে বিচিত্র গান। তব আজ্ঞা রক্ষা করি নাই সে ক্ষমতা, সাধ্য নাই তাঁর আজ্ঞা করিতে অন্যথা।'
শুধু তোমার বাণী নয় গো হে বন্ধু, হে প্রিয়, মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার পরশখানি দিয়ো। সারা পথের ক্লান্তি আমার সারা দিনের তৃষা কেমন করে মেটাব যে খুঁজে না পাই দিশা। এ আঁধার যে পূর্ণ তোমায় সেই কথা বলিয়ো। মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার পরশখানি দিয়ো। হৃদয় আমার চায় যে দিতে, কেবল নিতে নয়, ব'য়ে ব'য়ে বেড়ায় সে তার যা-কিছু সঞ্চয়। হাতখানি ওই বাড়িয়ে আনো, দাও গো আমার হাতে, ধরব তারে, ভরব তারে, রাখব তারে সাথে-- একলা পথের চলা আমার করব রমণীয়। মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার পরশখানি দিয়ো।