পুজোর ছুটি আসে যখন বকসারেতে যাবার পথে-- দূরের দেশে যাচ্ছি ভেবে ঘুম হয় না কোনো মতে। সেখানে যেই নতুন বাসায় হপ্তা দুয়েক খেলায় কাটে দূর কি আবার পালিয়ে আসে আমাদেরি বাড়ির ঘাটে! দূরের সঙ্গে কাছের কেবল কেনই যে এই লুকোচুরি, দূর কেন যে করে এমন দিনরাত্তির ঘোরাঘুরি। আমরা যেমন ছুটি হলে ঘরবাড়ি সব ফেলে রেখে রেলে চড়ে পশ্চিমে যাই বেরিয়ে পড়ি দেশের থেকে, তেমনিতরো সকালবেলা ছুটিয়ে আলো আকাশেতে রাতের থেকে দিন যে বেরোয় দূরকে বুঝি খুঁজে পেতে? সে-ও তো যায় পশ্চিমেতেই, ঘুরে ঘুরে সন্ধ্যে হলে, তখন থেকে রাতের মাঝেই দূর সে আবার গেছে চলে। সবাই যেন পলাতকা মন টেকে না কাছের বাসায়। দলে দলে পলে পলে কেবল চলে দূরের আশায়। পাতায় পাতায় পায়ের ধ্বনি, ঢেউয়ে ঢেউয়ে ডাকাডাকি, হাওয়ায় হাওয়ায় যাওয়ার বাঁশি কেবল বাজে থাকি থাকি। আমায় এরা যেতে বলে, যদি বা যাই, জানি তবে দূরকে খুঁজে খুঁজে শেষে মায়ের কাছেই ফিরতে হবে।
শ্রীযুক্ত লোকেন্দ্রনাথ পালিত সুহৃত্তমের প্রতি ক্ষণিকারে দেখেছিলে ক্ষণিক বেশে কাঁচা খাতায়, সাজিয়ে তারে এনে দিলেম ছাপা বইয়ের বাঁধা পাতায়। আশা করি নিদেন-পক্ষে ছ'টা মাস কি এক বছরই হবে তোমার বিজন-বাসে সিগারেটের সহচরী। কতকটা তার ধোঁয়ার সঙ্গে স্বপ্নলোকে উড়ে যাবে-- কতকটা কি অগ্নিকণায় ক্ষণে ক্ষণে দীপ্তি পাবে? কতকটা বা ছাইয়ের সঙ্গে আপনি খসে পড়বে ধুলোয়, তার পরে সে ঝেঁটিয়ে নিয়ে বিদায় কোরো ভাঙা কুলোয়। শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর