রাত্রি যবে সাঙ্গ হল, দূরে চলিবারে দাঁড়াইলে দ্বারে। আমার কণ্ঠের যত গান করিলাম দান। তুমি হাসি মোর হাতে দিলে তব বিরহের বাঁশি। তার পরদিন হতে বসন্তে শরতে আকাশে বাতাসে উঠে খেদ, কেঁদে কেঁদে ফিরে বিশ্বে বাঁশি আর গানের বিচ্ছেদ।
তোমার ভুবন মর্মে আমার লাগে। তোমার আকাশ অসীম কমল অন্তরে মোর জাগে। এই সবুজ এই নীলের পরশ সকল দেহ করে সরস-- রক্ত আমার রঙিয়ে আছে তব অরুণরাগে। আমার মনে এই শরতের আকুল আলোখানি এক পলকে আনে যেন বহুযুগের বাণী। নিশীথরাতে নিমেষহারা তোমার যত নীরব তারা এমন ক'রে হৃদয়দ্বারে আমায় কেন মাগে।
উড়িয়ে ধ্বজা অভ্রভেদী রথে ওই যে তিনি, ও ই যে বাহির পথে। আয় রে ছুটে, টানতে হবে রশি, ঘরের কোণে রইলি কোথায় বসি। ভিড়ের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে গিয়ে ঠাঁই করে তুই নে রে কোনোমতে। কোথায় কী তোর আছে ঘরের কাজ, সে-সব কথা ভুলতে হবে আজ। টান্ রে দিয়ে সকল চিত্তকায়া, টান্ রে ছেড়ে তুচ্ছ প্রাণের মায়া, চল্ রে টেনে আলোর অন্ধকারে নগর গ্রামে অরণ্যে পর্বতে। ওই যে চাকা ঘুরছে ঝনঝনি, বুকের মাঝে শুনছ কি সেই ধ্বনি। রক্তে তোমার দুলছে না কি প্রাণ। গাইছে না মন মরণজয়ী গান? আকাঙক্ষা তোর বন্যাবেগের মতো ছুটছে নাকি বিপুল ভবিষ্যতে।