যৌবনের অনাহূত রবাহূত ভিড়-করা ভোজে কে ছিল কাহার খোঁজে, ভালো করে মনে ছিল না তা। ক্ষণে ক্ষণে হয়েছে আসন পাতা, ক্ষণে ক্ষণে নিয়েছে সরায়ে। মালা কেহ গিয়েছে পরায়ে জেনেছিনু, তবু কে যে জানি নাই তারে। মাঝখানে বারে বারে কত কী যে এলোমেলো কভু গেল, কভু এল। সার্থকতা ছিল যেইখানে ক্ষণিক পরশি তারে চলে গেছি জনতার টানে। সে যৌবনমধ্যাহ্নের অজস্রের পালা শেষ হয়ে গেছে আজি, সন্ধ্যার প্রদীপ হল জ্বালা। অনেকের মাঝে যারে কাছে দেখে হয় নাই দেখা একেলার ঘরে তারে একা চেয়ে দেখি, কথা কই চুপে চুপে, পাই তারে না-পাওয়ার রূপে।
মোর চেতনায় আদিসমুদ্রের ভাষা ওঙ্কারিয়া যায়; অর্থ তার নাহি জানি, আমি সেই বাণী। শুধু ছলছল কলকল; শুধু সুর, শুধু নৃত্য, বেদনার কলকোলাহল; শুধু এ সাঁতার-- কখনো এ পারে চলা, কখনো ও পার, কখনো বা অদৃশ্য গভীরে, কভু বিচিত্রের তীরে তীরে। ছন্দের তরঙ্গদোলে কত যে ইঙ্গিত ভঙ্গি জেগে ওঠে, ভেসে যায় চলে। স্তব্ধ মৌনী অচলের বহিয়া ইশারা নিরন্তর স্রোতোধারা অজানা সম্মুখে ধায়, কোথা তার শেষ কে জানে উদ্দেশ। আলোছায়া ক্ষণে ক্ষণে দিয়ে যায় ফিরে ফিরে স্পর্শের পর্যায়। কভু দূরে কখনো নিকটে প্রবাহের পটে মহাকাল দুই রূপ ধরে পরে পরে কালো আর সাদা। কেবলি দক্ষিণে বামে প্রকাশ ও প্রকাশের বাধা অধরার প্রতিবিম্ব গতিভঙ্গে যায় এঁকে এঁকে, গতিভঙ্গে যায় ঢেকে ঢেকে।