ছুঁয়ো না, ছুঁয়ো না ওরে, দাঁড়াও সরিয়া। ম্লান করিয়ো না আর মলিন পরশে। ওই দেখো তিলে তিলে যেতেছে মরিয়া, বাসনানিশ্বাস তব গরল বরষে। জান না কি হৃদি-মাঝে ফুটেছে যে ফুল ধুলায় ফেলিলে তারে ফুটিবে না আর। জান না কি সংসারের পাথার অকূল, জান না কি জীবনের পথ অন্ধকার। আপনি উঠেছে ওই তব ধ্রুবতারা, আপনি ফুটেছে ফুল বিধির কৃপায়, সাধ করে কে আজি রে হবে পথহারা-- সাধ করে এ কুসুম কে দলিবে পায়! যে প্রদীপ আলো দেবে তাহে ফেল শ্বাস, যারে ভালোবাস তারে করিছ বিনাশ!
পাড়ায় কোথাও যদি কোনো মৌচাকে একটুকু মধু বাকি থাকে, যদি তা পাঠাতে পার ডাকে, বিলাতি সুগার হতে পাব নিস্তার, প্রাতরাশে মধুরিমা হবে বিস্তার। মধুর অভাব যবে অন্তরে বাজে "গুড়ং দদ্যাৎ' বাণী বলে কবিরাজে। দায়ে পড়ে তাই লুচি-পাউরুটিগুলো গুড় দিয়ে খাই; বিমর্ষমুখে বলি "গুড়ং দদ্যাৎ', সে যেন গদ্যের দেশে আসি পদ্যাৎ। খালি বোতলের পানে চেয়ে চেয়ে চিত্ত নিশ্বাস ফেলে বলে, সকলই অনিত্য। সম্ভব হয় যদি এ বোতলটারে পূর্ণতা এনে দিতে পারে দূর হতে তোমার আতিথ্য। গৌড়ী গদ্য হতে মধুময় পদ্য দর্শন দিতে পারে সদ্য।