কবে আমি বাহির হলেম তোমারি গান গেয়ে-- সে তো আজকে নয় সে আজকে নয়। ভুলে গেছি কবে থকে আসছি তোমায় চেয়ে সে তো আজকে নয় সে আজকে নয়। ঝরনা যেমন বাহিরে যায়, জানে না সে কাহারে চায়, তেমনি করে ধেয়ে এলেম জীবনধারা বেয়ে-- সে তো আজকে নয় সে আজকে নয়। কতই নামে ডেকেছি যে, কতই ছবি এঁকেছি যে, কোন্ আনন্দে চলেছি, তার ঠিকানা না পেয়ে-- সে তো আজকে নয় সে আজকে নয়। পুষ্প যেমন আলোর লাগি না জেনে রাত কাটায় জাগি, তেমনি তোমার আশায় আমার হৃদায় আছে ছেয়ে-- সে তো আজকে নয় সে আজকে নয়।
যে গান গাহিয়াছিনু কবেকার দক্ষিণ বাতাসে সে গান আমার কাছে কেন আজ ফিরে ফিরে আসে শরতের অবসানে। সেদিনের সাহানার সুর আজি অসময়ে এসে অকারণে করিছে বিধুর মধ্যাহ্নের আকাশেরে; দিগন্তের অরণ্যরেখায় দূর অতীতের বাণী লিপ্ত আছে অস্পষ্ট লেখায়, তাহারে ফুটাতে চাহে। পথভ্রান্ত করুণ গুঞ্জনে মধু আহরিতে ফিরে, সেদিনের অকৃপণ বনে যে চামেলিবল্লী ছিল তারি শূন্য দানসত্র হতে। ছায়াতে যা লীন হল তারে খোঁজে নিষ্ঠুর আলোতে। শীতরিক্ত শাখা ছেড়ে পাখি গেছে সিন্ধুপারে চলি, তারি কুলায়ের কাছে সে কালের বিস্মৃত কাকলি বৃথাই জাগাতে আসে। যে তারকা অস্তে গেল দূরে তাহারি স্পন্দন ও-যে ধরিয়া এনেছে নিজ সুরে।