শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে পড়ুক ঝরে তোমারি সুরটি আমার মুখের 'পরে বুকের 'পরে। পুরবের আলোর সাথে পড়ুক প্রাতে দুই নয়ানে- নিশীথের অন্ধকারে গভীর ধারে পড়ুক প্রাণে, নিশিদিন এই জীবনের সুখের 'পরে দুঃখের 'পরে শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে পড়ুক ঝরে। যে শাখায় ফুল ফোটে না ফল ধরে না একেবারে তোমার ওই বাদল-বায়ে দিক জাগায়ে সেই শাখারে। যা-কিছু জীর্ণ আমার দীর্ণ আমার জীবনহারা তাহারি স্তরে স্তরে পড়ুক ঝরে সুরের ধারা। নিশিদিন এই জীবনের তৃষার 'পরে ভুখের 'পরে শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে পড়ুক ঝরে।
অজানা জীবন বাহিনু, রহিনু আপন মনে, গোপন করিতে চাহিনু-- ধরা দিনু দুনয়নে। কী বলিতে পাছে কী বলি তাই দূরে ছিনু কেবলি, তুমি কেন এসে সহসা দেখে গেলে আঁখিকোণে কী আছে আমার মনে। গভীর তিমিরগহনে আছিনু নীরব বিরহে, হাসির তড়িৎ-দহনে লুকানো সে আর কি রহে। দিন কেটেছিল বিজনে ধেয়ানের ছবি সৃজনে, আনমনে যেই গেয়েছি শুনে গেছ সেইখনে কী আছে আমার মনে। প্রবেশিলে মোর নিভৃতে, দেখে নিলে মোরে কী ভাবে, যে দীপ জ্বেলেছি নিশীথে সে দীপ কি তুমি নিভাবে। ছিল ভরি মোর থালিকা, ছিঁড়িব কি সেই মালিকা। শরম দিবে কি তাহারে অকথিত নিবেদনে যা আছে আমার মনে।