শুরু হতেই ও আমার সঙ্গ ধরেছে, ঐ একটা অনেক কালের বুড়ো, আমাতে মিশিয়ে আছে এক হয়ে। আজ আমি ওকে জানাচ্ছি-- পৃথক হব আমরা। ও এসেছে কতলক্ষ পূর্বপুরুষের রক্তের প্রবাহ বেয়ে; কত যুগের ক্ষুধা ওর, কত তৃষ্ণা; সে সব বেদনা বহু দিনরাত্রিকে মথিত করেছে সুদীর্ঘ ধারাবাহী অতীতকালে; তাই নিয়ে ও অধিকার ক'রে বসল নবজাত প্রাণের এই বাহনকে, ঐ প্রাচীন, ঐ কাঙাল। আকাশবাণী আসে ঊর্ধ্বলোক হতে, ওর কোলাহলে সে যায় আবিল হয়ে। নৈবেদ্য সাজাই পূজার থালায়, ও হাত বাড়িয়ে নেয় নিজে। জীর্ণ করে ওকে দিনে দিনে পলে পলে, বাসনার দহনে, ওর জরা দিয়ে আচ্ছন্ন করে আমাকে যে-আমি জরাহীন। মুহূর্তে মুহূর্তে ও জিতে নিয়েছে আমার মমতা, তাই ওকে যখন মরণে ধরে ভয় লাগে আমার যে-আমি মৃত্যুহীন। আমি আজ পৃথক হব। ও থাক্ ঐ খানে দ্বারের বাহিরে, ঐ বৃদ্ধ, ঐ বুভুক্ষু। ও ভিক্ষা করুক, ভোগ করুক, তালি দিক্ বসে বসে ওর ছেঁড়া চাদরখানাতে; জন্মমরণের মাঝখানটাতে যে আল-বাঁধা খেতটুকু আছে সেইখানে করুক উঞ্ছবৃত্তি। আমি দেখব ওকে জানলায় ব'সে, ঐ দূরপথের পথিককে, দীর্ঘকাল ধরে যে এসেছে বহু দেহমনের নানা পথের বাঁকে বাঁকে মৃত্যুর নানা খেয়া পার হয়ে। উপরের তলায় বসে দেখব ওকে ওর নানা খেয়ালের আবেশে, আশা-নৈরাশ্যের ওঠা-পড়ায় সুখদুঃখের আলো-আঁধারে। দেখব যেমন করে পুতুলনাচ দেখে; হাসব মনে মনে। মুক্ত আমি, স্বচ্ছ আমি, স্বতন্ত্র আমি, নিত্যকালের আলো আমি, সৃষ্টি-উৎসের আনন্দধারা আমি, অকিঞ্চন আমি, আমার কোনো কিছুই নেই অহংকারের প্রাচীরে ঘেরা।
WHEN THE warriors came out first from their master's hall, where had they hid their power? Where were their armour and their arms? They looked poor and helpless, and the arrows were showered upon them on the day they came out from their master's hall. When the warriors marched back again to their master's hall where did they hide their power? They had dropped the sword and dropped the bow and the arrow; peace was on their foreheads, and they had left the fruits of their life behind them on the day they marched back again to their master's hall.
মধুর সূর্যের আলো, আকাশ বিমল, সঘনে উঠিছে নাচি তরঙ্গ উজ্জ্বল। মধ্যাহ্নের স্বচ্ছ করে সাজিয়াছে থরে থরে ক্ষুদ্র নীল দ্বীপগুলি, শুভ্র শৈলশির। কাননে কুঁড়িরে ঘিরি পড়িতেছে ধীরি ধীরি পৃথিবীর অতি মৃদু নিশ্বাসসমীর। একই আনন্দে যেন গায় শত প্রাণ-- বাতাসের গান আর পাখিদের গান। সাগরের জলরব পাখিদের কলরব এসেছে কোমল হয়ে স্তব্ধতার সংগীত-সমান। ২ আমি দেখিতেছি চেয়ে সমুদ্রের জলে শৈবাল বিচিত্রবর্ণ ভাসে দলে দলে। আমি দেখিতেছি চেয়ে উপকূল-পানে ধেয়ে মুঠি মুঠি তারাবৃষ্টি করে ঢেউগুলি। বিরলে বালুকাতীরে একা বসে রয়েছি রে, চারি দিকে চমকিছে জলের বিজুলি। তালে তালে ঢেউগুলি করিছে উত্থান-- তাই হতে উঠিতেছে কী একটি তান। মধুর ভাবের ভরে হৃদয় কেমন করে, আমার সে ভাব আজি বুঝিবে কি আর কোনো প্রাণ। ৩ হায় মোর নাই আশা, নাইকো আরাম-- ভিতরে নাইকো শান্তি, বাহিরে বিরাম। নাই সে সন্তোষধন জ্ঞানী ঋষি যোগীগণ। ধ্যানসাধনায় যাহা পায় করতলে-- আনন্দ-মগন-মন করে তারা বিচরণ, বিমল মহিমালোক অন্তরেতে জ্বলে। নাই যশ, নাই প্রেম, নাই অবসর-- পূর্ণ করে আছে এরা সকলেরি ঘর। সুখে তারা হাসে খেলে, সুখের জীবন বলে-- আমার কপালে বিধি লিখিয়াছে আরেক অক্ষর। ৪ কিন্তু নিরাশাও শান্ত হয়েছে এমন যেমন বাতাস এই, সলিল যেমন মনে হয় মাথা থুয়ে এইখানে থাকি শুয়ে অতিশয় শ্রান্তকায় শিশুটির মতো। কাঁদিয়া দুঃখের প্রাণ করে দিই অবসান-- যে দুঃখ বহিতে হবে,বহিয়াছি কত। আসিবে ঘুমের মতো মরণের কোল, ধীরে ধীরে হিম হয়ে আসিবে কপোল। মুমূর্ষু শ্রবণতলে মিশাইবে পলে পলে সাগরের অবিরাম একতান অন্তিম কল্লোল।